খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ২:৫৯ পিএম

সিলেট বিভাগে চলতি বছরের শুরু থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রায় সাত মাসে হাম ও নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় ১০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ৫৯১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ২২৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে ৪৭ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বিভাগে মোট ৫৯১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে সুনামগঞ্জে। সেখানে পরীক্ষায় ৩০৭ জনের হাম ধরা পড়েছে। সিলেট জেলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৯৬ জন। হবিগঞ্জে ৬১ জনের মধ্যে ৫৯ জনের হাম এবং দুজনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। মৌলভীবাজারে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৭ জনের শরীরে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, মৃত্যুর সংখ্যাতেও সুনামগঞ্জ সবার ওপরে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলাটিতে ৪৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট জেলায় মারা গেছে ৩৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১১ জন। সব মিলিয়ে মৃত ১০৮ শিশুর মধ্যে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হামের কারণে হয়েছে। অন্য ১০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামসদৃশ উপসর্গের সঙ্গে নিউমোনিয়ার জটিলতা দেখা দেওয়ার পর।
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| ল্যাব পরীক্ষায় মোট হাম শনাক্ত | ৫৯১ জন |
| সুনামগঞ্জে হাম শনাক্ত | ৩০৭ জন |
| সিলেট জেলায় হাম শনাক্ত | ১৯৬ জন |
| হবিগঞ্জে হাম শনাক্ত | ৬১ জন |
| হবিগঞ্জে রুবেলা শনাক্ত | ২ জন |
| মৌলভীবাজারে হাম শনাক্ত | ২৭ জন |
| মোট শিশুমৃত্যু | ১০৮ জন |
| নিশ্চিত হামে মৃত্যু | ৪ জন |
| হামসদৃশ উপসর্গ ও নিউমোনিয়ার জটিলতায় মৃত্যু | ১০৪ জন |
| সুনামগঞ্জে শিশুমৃত্যু | ৪৮ জন |
| সিলেট জেলায় শিশুমৃত্যু | ৩৬ জন |
| মৌলভীবাজারে শিশুমৃত্যু | ১৩ জন |
| হবিগঞ্জে শিশুমৃত্যু | ১১ জন |
| বর্তমানে সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন | ২২৯ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি | ৪৭ জন |
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। এ সময়ে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ৪৭ শিশুকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৭ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুজন ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো শিশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২২৯ সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ৭৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭২ জন। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৩০ জন। অন্য রোগীরা বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৫৯১ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং বর্তমানে ২২৯ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত এক দিনে আরও ৪৭ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিশুদের মধ্যে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা বিশেষ করে অল্পবয়সী ও শারীরিকভাবে দুর্বল শিশুদের জন্য গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, আক্রান্ত শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি করা গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেট বিভাগের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক শিশুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে মৃত্যুর বড় অংশ হামসদৃশ উপসর্গের সঙ্গে নিউমোনিয়ার জটিলতার কারণে হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রোগ শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা, আক্রান্তদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন স্বাস্থ্যসেবার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য