শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের রঙিন সকাল ও বিকেল

আজ বৃহস্পতিবার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ দিন হিসেবে চিহ্নিত হলো। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের সব নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, যা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের উদাহরণ স্থাপন করেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পরে যারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, তাদেরও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তবে বিকাল ৪টার পর নতুন ভোটার ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। রাজধানীর এক ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলেন, “বিকাল ৪টা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণের শেষ সময় হলেও লাইনে থাকা ভোটাররা নিশ্চিতভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এতে কোনো ভোটার হতাশ হবেন না।”

রাজধানীর গুলশান, বনানী ও ধানমণ্ডি এলাকায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নারী ভোটারদের উপস্থিতি নজরকাড়া। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহী ছিলেন।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টার মধ্যে অনেক কেন্দ্রে ২০–২৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বনানী কেন্দ্রের ৫১ নম্বর ভোটকেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মোট ৩,৫১০টি ভোটের মধ্যে ৭৯৫টি ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ২২ শতাংশ।

নিচের টেবিলে নির্বাচনী তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়সংখ্যা / বিবরণ
সংসদীয় আসন সংখ্যা২৯৯ (শেরপুর-৩ স্থগিত)
মোট প্রার্থী২,৩৪০
স্বতন্ত্র প্রার্থী২৭৫
দলীয় প্রার্থী (বৃহত্তম দলসমূহ)বিএনপি: ২৯১, ইসলামী আন্দোলন: ২৫৮, জামায়াতে ইসলামী: ২২৯, জাতীয় পার্টি: ১৯৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি: ৩২
মোট ভোটার১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯
পুরুষ ভোটার৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪
নারী ভোটার৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫
ভোটকেন্দ্র সংখ্যা৪২,৭৭৯
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাপ্রায় ৮ লাখ
নিরাপত্তা বাহিনীসেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আনসারসহ প্রায় ৯ লাখ সদস্য
পর্যবেক্ষকদেশি-বিদেশি প্রায় ৫৬,০০০

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি আসনে মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে।

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে মোট ৫৬,০০০ জন অংশগ্রহণ করেছেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এভাবে দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আজকের দিনটি দেশীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে শান্তিপূর্ণ ও উদাহরণমূলক নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হবে।