খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ২:৪২ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে জামায়াত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দলটি। একই চিঠির অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সিইসির কাছে চিঠিটি পৌঁছে দেন। চিঠির মাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি, কমিশনের এখতিয়ার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দলটির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এর ভিত্তিতে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারার বিধান অনুসরণ করে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
জামায়াতের চিঠি অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তের ফলাফল এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পরদিনই দলীয় সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে জানানো হয়। নির্বাচন কমিশনে পাঠানো চিঠিতে জামায়াত বলেছে, গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের বিষয়টি কমিশনের নথিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমিশনের আইনগত ও সাংবিধানিক এখতিয়ার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সংসদের স্পিকারের কাছে চিঠির অনুলিপি পাঠানোর মাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য হিসেবে অবস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়টিও অবহিত করেছে জামায়াত। ফলে দলীয় বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তার সংসদ সদস্য পদ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ আসে কি না, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিষয়টি দলীয় পর্যায়েও গুরুত্ব পায় এবং জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্তের উদ্যোগ নেয়।
দলটির দাবি অনুযায়ী, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ২২ জুলাই কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ২৩ জুলাই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সিইসির কাছে লিখিতভাবে সিদ্ধান্তটি জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পিকারকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
তবে গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা দলটির পাঠানো চিঠির বিবরণে উল্লেখ নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে তার বক্তব্য জানা গেলে অভিযোগ ও দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার অবস্থানও স্পষ্ট হতে পারে।
এদিকে, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত এবং একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সাংবিধানিক অবস্থান—দুটি বিষয় এক নয়। ফলে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর নির্বাচন কমিশন ও সংসদীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করবে, সেটিই এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। দলটির চিঠিতে মূলত সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানকে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে তাদের নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এখন নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা আসে কি না, সেটিই নজর রাখার বিষয়। পাশাপাশি গাজী নজরুল ইসলাম নিজে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক,
মন্তব্য