খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুলাই ২০২৬, ৫:৫১ পিএম

নেত্রকোনা শহরে ট্রেনে কাটা পড়ে মুহিদ খান রিফাত (২২) নামে এক পোশাক কারখানার কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরে শহরের রাজুর বাজার রেল কালভার্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
নিহত রিফাত নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের বড় পাইকুড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মঈনুল কবীর খানের ছেলে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে তিনি রাজধানী থেকে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। অনেক দিন পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ নিয়েই তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের শেষ পথচলায় পরিণত হয়।
রিফাতের মামা লিলু মড়ল জানান, ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারেন, নেত্রকোনা শহরের রাজুর বাজার রেল কালভার্ট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, নিহত যুবক রিফাতই।
নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খানে আলম খান বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রিফাত ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে রেললাইন থেকে ছিটকে পাশের একটি ডোবায় গিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকামল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি মোহনগঞ্জ সরকারি রেলওয়ে (জিআরপি) পুলিশকে জানানো হয়েছে। জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে রেলওয়ে পুলিশ।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিফাত চলন্ত ট্রেন থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেবেন এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রিফাতের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে ঘটনাস্থলের পরিবেশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। জীবিকার সন্ধানে রাজধানীতে কর্মরত বহু তরুণের মতো রিফাতও পরিবারের স্বপ্ন পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন। তাঁর এমন অকাল মৃত্যু এলাকায় ব্যাপক শোকের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিভিন্ন কারণে রেলপথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা, দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ, অসতর্ক চলাচল কিংবা অন্যান্য দুর্ঘটনাজনিত কারণে অনেক মানুষ প্রাণ হারান বা গুরুতর আহত হন। এ ধরনের ঘটনা কমিয়ে আনতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি রেলপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ভ্রমণ বিষয়ে জনসচেতনতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে তুলে আসছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য