জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৯:২১ এএম

গ্যালারি জুড়ে তখন ব্রিটিশ সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস আর গগনবিদারি স্লোগান—‘ফুটবল ইজ কামিং হোম’। ম্যাচের বয়স ৮৪ মিনিট পার হয়ে গেছে, স্কোরবোর্ডে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর দীর্ঘ ছয় দশকের ফাইনাল খরা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ তখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু ফুটবল দেবতা বোধহয় স্ক্রিপ্টটা অন্যভাবে লিখে রেখেছিলেন। মাত্র সাত মিনিটের এক বিধ্বংসী আর্জেন্টাইন ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল থ্রি লায়ন্সদের সব স্বপ্ন।
ইউরোপের অন্যতম সেরা ট্যাকটিশিয়ান ও ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ টমাস টুখেলের চাল ভুল প্রমাণিত হলো ম্যাচের শেষভাগে। ৫৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে লিড পেয়েছিল ইংলিশরা। নকআউট পর্বের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে যে কিছুটা জড়তা ছিল, তা টুখেল ধরতে পেরেছিলেন। কিন্তু গোল পাওয়ার পরেই তিনি প্রথাগত আক্রমণাত্মক ফুটবল ছেড়ে অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেন। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যে এর আগেও দুই ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ জিতেছিল, সেই ইতিহাসকে যেন আমলই দিতে চাননি টুখেল।
ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। রক্ষণ সামলাতে গিয়ে আর্জেন্টিনা দলকে নিজেদের অর্ধে ডেকে আনে ইংল্যান্ড। আর লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্টিনেজের যুগলবন্দিতে সেই রক্ষণভাগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে সময় নেয়নি। ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড একবার গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার না করলে এবং আর্জেন্টিনার আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে ব্যবধান আরও আগেই সমান হতো।
চলতি আসরে মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একদম শেষ মুহূর্তে ম্যাচ বের করে আনার নজির গড়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। আর প্রতিপক্ষ যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড, তখন লড়াইটা যে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত যাবে, তা বলাই বাহুল্য। ফকল্যান্ড দ্বৈরথ কিংবা ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’—সব আবেগ যেন ভর করেছিল আলবিসেলেস্তেদের পায়ে।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন এনজো ফার্নান্দেজ। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর জোরালো কোনাকুনি শট ইংলিশ ডিফেন্ডারদের ব্লক ভেদ করে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। এই এক গোলেই পুরো স্টেডিয়ামের চিত্র বদলে যায়। সমতায় ফিরে আর্জেন্টিনা যখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে, ইংল্যান্ড তখন মানসিকভাবে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষ মিনিটে আসে সেই মোক্ষম আঘাত। ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত এক ক্রস বাড়ান ৩৯ বছর বয়সী জাদুকর লিওনেল মেসি। ইংলিশ ডিফেন্সের সবাইকে বোকা বানিয়ে চলন্ত বলে চোখ ধাঁধানো হেডে গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো ইংলিশ শিবির। মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয়ে ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের।
রেফারি অতিরিক্ত সময় হিসেবে ৯ মিনিট দিলেও ছন্নছাড়া ইংল্যান্ড আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। উল্টো শেষ মুহূর্তেও মেসির পাস থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই জোড়া অ্যাসিস্টে দলকে ফাইনালে তুললেন ফুটবল জাদুকর। সেই সাথে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কখনো না হারার অজেয় রেকর্ডটি আরও একবার অক্ষত থাকল।
মন্তব্য