খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম

রংপুরের পীরগঞ্জে ফসলের খেত পাহারা দিতে গিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কৃষক মফিজার রহমান। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ পাম্পের মূল্যবান ট্রান্সফরমার চুরি করতে বাধা দেওয়ায় সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস পর মূল হোতাদের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত মঙ্গলবার রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে শহিদুল ইসলাম (৫৪) নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুরান্দার এলাকার মফিজ উদ্দিন শেখের ছেলে।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে র্যাব-১৩-এর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত জানানো হয়েছে। র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ বাজার এলাকায় অভিযান চালায় র্যাবের একটি আভিযানিক দল। সেখান থেকেই আত্মগোপনে থাকা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের কৃষক মফিজার রহমানের জমিতে বিএডিসির একটি গভীর নলকূপ ছিল। ওই অঞ্চলের কৃষকদের সেচ সুবিধার মূল উৎস ছিল এই পাম্পটি। এর দামি ট্রান্সফরমারটি চুরি হওয়ার আশঙ্কায় মফিজার রহমান প্রতিদিন রাতে পাম্পের সেচঘরে ঘুমাতেন এবং পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করতেন।
গত ৭ মে সকালে এক প্রতিবেশী মাঠে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ দেখেন যে পাম্পের ঘরের ট্রান্সফরমারটি উধাও। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে মফিজার রহমানের পরিবারকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন দ্রুত সেচঘরে ছুটে যান এবং ঘরের দরজাটি বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান।
বাইরের শিকল খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই ঘরের মেঝেতে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় মফিজার রহমানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। চোরেরা যখন রাতের অন্ধকারে ট্রান্সফরমার চুরি করতে আসে, তখন মফিজার রহমান তাদের বাধা দিয়েছিলেন। এই বাধাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষুব্ধ চোর চক্রের সদস্যরা তাঁকে বেঁধে মাথায় ও শরীরে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং ট্রান্সফরমার নিয়ে চম্পট দেয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দিনই (৭ মে) নিহতের ভাই মনুয়ার হোসেন বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় মামলাটির তদন্ত শুরুতে বেশ কঠিন ছিল। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অবশেষে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য শহিদুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ঘটনার রাতে চুরি ও হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট পীরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য