খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর উত্তরা থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে লং মার্চ শুরু করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উত্তরের বিএনএস সেন্টার এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তারা সচিবালয়ের দিকে যাত্রা করেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে প্রভাব পড়ে এবং সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
এর আগে দুপুরে নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিএনএস সেন্টার এলাকায় জড়ো হন। সেখানে তারা কিছু সময় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে আশপাশের সড়কে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যায় এবং যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরপর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা সচিবালয় অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে বহু পরীক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না। কোথাও কোথাও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, আবার অনেক এলাকায় নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণ শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করছে না বলে তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া অনেক শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল মঙ্গলবারের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ঘোষণা না আসায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসেননি। বুধবারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই তারা লং মার্চ শুরু করেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। তাদের দাবি, দুর্যোগকালীন বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত আরও সংবেদনশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৩ জুলাই) প্রতিকূল আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এসব কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর আন্দোলন ধাপে ধাপে বিস্তৃত হয়ে লং মার্চ কর্মসূচিতে গড়ায়।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের সচিবালয়মুখী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সচিবালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি এবং দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থানের ওপর এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।
মন্তব্য