খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ৮:৮ পিএম

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে একটি ফেসবুক পেজ। আন্দোলন ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি অডিওতে শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি ওঠার পরই এই নাম ব্যবহার করে অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগটি চালু করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ‘Broiler Chicken Party’ নামে ফেসবুক পেজটি চালু করেন একদল তরুণ। পেজটির স্লোগান রাখা হয়েছে—“We are not insulted, We are awakened”। অর্থাৎ, ‘আমরা অপমানিত নই, আমরা জেগে উঠেছি।’ পেজটি চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত পেজটিতে ১ হাজার ৩ জন অনুসারী (ফলোয়ার) যুক্ত হন।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়াকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করছেন পরীক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশের মতো কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ ফেসবুক পেজে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও এবং কর্মসূচির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট নানা প্রতিক্রিয়া ও মতামতও সেখানে শেয়ার করা হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কোনো মন্তব্য, বক্তব্য বা ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন অনলাইন প্রচারণা, প্রতীক কিংবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামের এই উদ্যোগকেও অনেকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
এর আগে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ নামে একটি অনলাইন উদ্যোগ আলোচনায় আসে। সেই ঘটনার মতোই বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক এই উদ্যোগটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক প্রতীকী প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তবে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ বর্তমানে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন বা আনুষ্ঠানিক দল নয়। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। এর কার্যক্রম এবং প্রভাব ভবিষ্যতে কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
মন্তব্য