,

অবৈধ শিকারিদের ফাঁদে বিপন্ন বাঘ, সময়মতো উদ্ধার বন বিভাগের

সুন্দরবনের মোংলা এলাকায় অবৈধ হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকে পড়ে একটি বাঘ। খবর পেয়ে বন বিভাগ দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং প্রায় ক্ষণিকের মধ্যেই বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই ঘটনা আবারও তুলে ধরেছে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর ওপর অবৈধ শিকার ও ফাঁদ স্থাপনের মারাত্মক প্রভাব।

রোববার, ৪ জানুয়ারি, সকাল থেকে মোংলার সুন্দরবনের বৈদ্ধমারী ও জয়মনি এলাকার মধ্যবর্তী শরকির খাল পাড় এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল, স্থানীয় কর্মী এবং ঢাকা থেকে আনা একজন ভেটেরিনারি সার্জন একত্রিত হয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনার সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া হয় যাতে বাঘটি কোনো শারীরিক আঘাত না পায়।

দুপুরে, ট্যাংকুলাইজার ব্যবহার করে বাঘটিকে অচেতন করা হয়। পরে তাকে নিরাপদভাবে খাঁচায় স্থানান্তর করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা হয়। করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বাঘটিকে প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রের খাঁচায় রাখা হয়েছে। শিগগিরই খুলনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য, বাঘটি সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পরই তাকে তার স্বাভাবিক বাসস্থানে ফিরিয়ে আনা।“

এই ধরনের ঘটনা সুন্দরবনে অবৈধ হরিণ শিকার ও ফাঁদ স্থাপনের বিপজ্জনক দিকও তুলে ধরে। বন বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অবৈধ শিকার ও ফাঁদ স্থাপনের ফলে বাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষ করে বাঘ, হরিণ, সাপ, মেছোবাঘ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী এসব ফাঁদে সহজেই আটকা পড়তে পারে।

বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সুন্দরবনের ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, ফাঁদ ধ্বংস ও অভিযানের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বন বিভাগ নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে বলেছে। অবৈধ শিকার রোধে জনগণকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিচের টেবিলে বাঘ উদ্ধারের মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
উদ্ধারকৃত প্রাণীবাঘ
দুর্ঘটনার কারণঅবৈধ হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকা পড়া
স্থানসুন্দরবন, মোংলা, বৈদ্ধমারী-জয়মনি এলাকার শরকির খাল পাড়া
তারিখ ও সময়৪ জানুয়ারি, সকাল থেকে দুপুর
উদ্ধার অভিযান পরিচালনাবন বিভাগ, স্থানীয় কর্মী ও ভেটেরিনারি সার্জন
ব্যবহৃত প্রযুক্তিট্যাংকুলাইজার, খাঁচা
প্রাথমিক অবস্থানকরমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র
পরবর্তী ব্যবস্থাখুলনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ
লক্ষ্যবাঘকে সুস্থ করে পুনর্বাসন এবং সুন্দরবনের প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া

বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে। বাঘসহ অন্যান্য বিপন্ন প্রাণীর জীবন রক্ষায় সকলের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের তৎপরতা শুধু বন্যপ্রাণী রক্ষার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থানকে স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রেও তা অপরিহার্য।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।