খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৮:৬ পিএম

খুলনা নগরের হরিণটানা এলাকায় কয়েক মাস আগে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে। দীর্ঘদিন গোপন থাকা এই ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয় যখন স্ত্রী নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশকে হত্যার পুরো বিবরণ দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে বাড়ির উঠান খুঁড়ে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘটেছিল। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক (৩০) এবং তাঁর স্ত্রীকে (২২) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি একটি ইজিবাইক নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে তাঁকে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ বাড়ির সামনের উঠানে পুঁতে রাখা হয়। পরে ইজিবাইকটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে আলাদাভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ইজিবাইকের নম্বরপ্লেট উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে খুলনা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন তথ্য যাচাই করা হয়। সেখানে জানা যায়, নিবন্ধিত মালিক মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি প্রায় চার বছর আগে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, নিহত ব্যক্তি মারুফ নামের কেউ হতে পারেন, তবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে আরও অনুসন্ধান চলছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির একটি পা ছিল না।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক নারী আগে যৌনকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েক মাস আগে ওই বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পরও স্বামীর সহযোগিতায় তিনি আগের পেশায় যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নিহত ব্যক্তিকে একই সূত্রে ওই বাড়িতে ডেকে আনা হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁকে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে স্বামী-স্ত্রী মিলে তাঁর গলা চেপে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দেওয়া হয়। বাড়িটি তুলনামূলক নির্জন এলাকায় হওয়ায় ঘটনাটি দীর্ঘদিন কারও নজরে আসেনি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা, যিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, এলাকায় বসতি কম এবং পরিবেশ বেশ নির্জন। ওই পরিবারের সঙ্গে আশপাশের মানুষের তেমন যোগাযোগ ছিল না। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদের খবর স্থানীয়রা শুনতেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্ত্রী থানায় এসে হত্যাকাণ্ডের কথা জানান। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি একজন ইজিবাইকচালক বলে ধারণা করা হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকার কারণে মরদেহের বেশির ভাগ অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ করছে। তদন্ত শেষ হলে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মন্তব্য