খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৫:১ পিএম

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (আজ) দুপুরে উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিলছড়ি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটির নাম নন্দী মল্লিক। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
নন্দী মল্লিক ওই এলাকার বাসিন্দা সুজন মল্লিকের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে বাড়ির কাছেই বসবাস করত সে। ঘটনার সময় শিশুটির বাবা ও মা দুজনই কর্মস্থলে ছিলেন। বাড়িতে তার দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন দাদি। প্রতিদিনের মতো বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করার সময় সবার অজান্তে শিশুটি পাশের নির্মাণাধীন ভবনের দিকে চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খেলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত শিশুটি ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বুঝতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর নন্দীকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে খুঁজেও তাকে না পেয়ে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানানো হয়।
পরে স্থানীয়রা অনুসন্ধান চালিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে শিশুটিকে দেখতে পান। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ট্যাংকের মূল ঢাকনা চুরি হয়ে যাওয়ার পর সেটি খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল। দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে অস্থায়ীভাবে বেড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছোট শিশুর নিরাপত্তার জন্য সেই ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেইন জানান, নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ট্যাংকের ঢাকনা চুরি যাওয়ার পর সেখানে নিরাপত্তার জন্য বেড়া দেওয়া হয়েছিল। তবে শিশুটি কীভাবে সেই জায়গায় পৌঁছে গেল এবং কীভাবে পড়ে গেল, তা পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেননি।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, খেলতে গিয়ে শিশুটি সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, ছোট শিশুদের চলাফেরার ক্ষেত্রে নির্মাণাধীন স্থাপনা, খোলা গর্ত, পরিত্যক্ত জলাধার কিংবা সেপটিক ট্যাংকের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো বিশেষভাবে নিরাপদ রাখা জরুরি। অনেক সময় সামান্য অসতর্কতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণাধীন ভবনের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো স্থাপনার কাজ চলাকালে খোলা গর্ত, ট্যাংক বা বিপজ্জনক অংশগুলো ভালোভাবে ঢেকে রাখা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, যথাযথ সতর্কতা নেওয়া হলে এ ধরনের হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব।
মন্তব্য