খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৮:৩০ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক রাতে শিয়ালের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছেন। আকস্মিক এ ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে লোকালয়ে শিয়ালের বিচরণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়ন এবং শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর থেকেই একটি বা একাধিক শিয়াল লোকালয়ে প্রবেশ করে। প্রথমে পথচারীদের ওপর হামলা চালানোর পর বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায় ঢুকে মানুষকে তাড়া করে এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেও কামড়ে দেয়। এতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের মধ্যে আকাশ (১৩), নাঈম (১১), মাজেদা (৪৫), রোজিনা (৩৬), হেলেনা আক্তার (৪০), আশরাফুল ইসলাম (২৬), শেফালী (৩৪), সাইফুন্নাহার (২৩) এবং আরাফ (১৪)-এর পরিচয় জানা গেছে। অন্য কয়েকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ভাংনাহাটি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কামিল মাদ্রাসাসংলগ্ন একটি বাড়িতে ঢুকে শিয়াল দুই নারীকে কামড়ে আহত করে। এ ঘটনার পর অনেক পরিবার শিশুদের ঘরের বাইরে যেতে দিচ্ছে না। স্থানীয়রা রাতের বেলায় চলাফেরায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং বন্যপ্রাণীর উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আলী আজগর সোহাগ জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে আহত অন্তত ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, আশপাশের বনাঞ্চল ও ঝোপঝাড় থেকে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে একই রাতে এত মানুষের ওপর হামলার ঘটনা বিরল। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
মন্তব্য