ঈদে স্বাভাবিক সরবরাহে ফিরছে জ্বালানি তেল

ঈদুল ফিতরের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার দেশের সব ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। রোববার থেকে কার্যকর এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকবে এবং এতে পূর্বে কার্যকর থাকা রেশনিং ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইরান–ইসরাইল সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে কিছু সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে সরকার জনসাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিল। তবে এখন কয়েকটি আমদানিকৃত জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাহায্য করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদকালীন ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং বোরো ধানের মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে দেশের সব বিতরণ পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদ এবং বোরো ধানের সেচকালীন সময় ডিজেলের চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়। তাই রেশনিং প্রত্যাহারের মাধ্যমে জনগণ ও কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান থাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, এবং প্রয়োজন হলে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

নিম্নের টেবিলে রেশনিং কার্যক্রম প্রত্যাহারের আগে নির্ধারিত তেলের দৈনিক সীমা দেখানো হলো:

যানবাহনের ধরণদৈনিক তেলের সীমা (লিটার)পূর্ববর্তী সীমা (লিটার)রেশনিং হার (%)
মোটরসাইকেল১৫
স্পোর্টস ইউটিলিটি যান/মাইক্রোবাস২০–২৫২০–২৫১৫
পিকআপ/লোকাল বাস৭০–৮০৭০–৮০১৫
দূরপাল্লার বাস/ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান২০০–২২০২০০–২২০১৫

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেশনিং ব্যবস্থা থাকাকালীন সময় বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছিল। কিছু এলাকায় পাম্প মালিকদের অভিযোগ ও সরবরাহ সংকটের কারণে সাময়িকভাবে তেল বিক্রয় বন্ধ করতে হয়েছে, যা পরিবহন খাত এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, সীমিত সরবরাহ এবং বিক্রির বিধিনিষেধের কারণে পাম্প পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ঈদে রেশনিং প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তি আসবে।

তবে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। তাই সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এই পদক্ষেপটি ঈদযাত্রা, কৃষি সেচ এবং সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন যাতায়াতকে নির্বিঘ্নভাবে চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।