খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৮:৬ পিএম

কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওড়ে ভ্রমণে এসে পানিতে নিখোঁজ হওয়া গাজীপুরের তরুণ পর্যটক শফিকুল ইসলাম তুলুর মরদেহ প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। দীর্ঘ সময় ধরে টানা অনুসন্ধান চালানোর পর রোববার সকালে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ঘোড়াউত্রা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার, সহযাত্রী এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শফিকুল ইসলাম তুলু (২৮) গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার কান্দানিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাবিবুর রহমানের ছেলে। শুক্রবার সকালে কাপাসিয়া থেকে ২৫ সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে নিকলী হাওড় ভ্রমণে এসেছিলেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে এমন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় পুরো সফরই মুহূর্তে শোকে পরিণত হয়।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুরের দিকে পর্যটকবাহী নৌকাটি নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া এলাকার হাওড়ে পৌঁছালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। নৌকাটি থেমে থাকার সুযোগে শফিকুল ইসলাম তুলুসহ তিনজন পানিতে নেমে গোসল ও ডুবসাঁতার শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের টানে শফিকুল গভীর পানিতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা অন্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। পরে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। টানা দুই দিন বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে রোববার সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘোড়াউত্রা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং সেটি নিখোঁজ শফিকুল ইসলাম তুলুর বলে শনাক্ত করা হয়।
নিকলী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আহসান হাবীব জানান, হাওড়ের বিস্তীর্ণ জলরাশি, গভীরতা এবং পানির স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবুও উদ্ধারকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে গেছেন, যার ফলেই মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে নিকলী হাওড় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী সেখানে ভ্রমণে যান। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গভীর পানি, অনিশ্চিত স্রোত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই হাওড় এলাকায় ভ্রমণের সময় পর্যটকদের আরও সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য