খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৩:৩০ পিএম

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় পানিতে ডুবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী (৮০)-এর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রমনা ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্বাধীনতা সংগ্রামের এই প্রবীণ যোদ্ধার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে মোহাম্মদ আলী সরকারপাড়া এলাকার একটি বাঁধ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। পথ চলার একপর্যায়ে তিনি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে বাঁধের নিচে জমে থাকা পানিতে পড়ে যান। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে যান এবং তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে পড়ে যাওয়ার পরই তিনি প্রাণ হারান। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা জানান, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শারীরিক দুর্বলতার কারণে তাঁর চলাফেরায়ও কিছুটা অসুবিধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানোর কারণেই তিনি পানিতে পড়ে যান। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
খবর পেয়ে চিলমারী মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সব দিক যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং আইন অনুযায়ী অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার আনুষ্ঠানিক নথিভুক্তিকরণ সম্পন্ন হবে।
মোহাম্মদ আলী দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল আন্তরিক সম্পর্ক, আর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু পরিবারই নয়, পুরো এলাকাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধার এমন আকস্মিক বিদায় স্থানীয় ইতিহাসেরও এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য বাঁধ, খাল, পুকুর বা জলাশয়ের আশপাশে চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁরা বয়সজনিত দুর্বলতা বা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন, তাঁদের একা চলাফেরা না করে পরিবারের সদস্য বা স্বজনের সহায়তা নেওয়া নিরাপদ। সামান্য অসাবধানতাও কখনো কখনো বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের অবদান স্মরণ করে স্থানীয়রা বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগী মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাও সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মন্তব্য