খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ১২:২৮ এএম

ইউক্রেন জুড়ে আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। শনিবার (১১ জুলাই) রাতভর ও সকাল জুড়ে চালানো রাশিয়ার এই আকস্মিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় অন্তত ছয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে একযোগে এই হামলা চালানো হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার তীব্রতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রাশিয়া নতুন করে রাতভর ১২০টি ড্রোন এবং ১২টি মিসাইল ছুড়েছে। এই ১২টি মিসাইলের মধ্যে ৬টিই ছিল অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সবগুলো ড্রোন এবং ৬টি সাধারণ মিসাইল আকাশেই ধ্বংস বা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। তবে বাকি
can ৬টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। জেলেনস্কি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আকাশ হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার আগেই এই ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো তীব্র গতিতে এসে বেসামরিক অবকাঠামোতে আছড়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ারও সুযোগ পায়নি।
কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, রাজধানীতে হওয়া এই মিসাইল হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। কিয়েভে অবস্থানরত বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, শনিবার সকালে হঠাৎ করেই পরপর দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো কিয়েভ। প্রথম বিস্ফোরণের ঠিক কয়েক মিনিট পরই দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে, যা বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কিয়েভের বেশ কিছু অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বাণিজ্যিক অফিস এবং একটি ধর্মীয় স্কুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজধানীর বাইরে ইউক্রেনের অন্যান্য প্রান্তেও এই হামলার বিধ্বংসী রূপ দেখা গেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সামি শহরের ওপর বিমান থেকে ভারী বোমা বর্ষণ করে রুশ বাহিনী। সামি শহরের মেয়র নিশ্চিত করেছেন যে, সেখানে আকাশ থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে এক কন্যাসন্তানসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী ওডেশাতেও আছড়ে পড়েছে রাশিয়ার মিসাইল। ওডেশা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে মিসাইলের সরাসরি আঘাতে দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়ার এমন নির্বিচার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো দ্রুতগতির অস্ত্রের ব্যবহার বেসামরিক এলাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানালেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইউক্রেনীয় প্রশাসন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক সমরাস্ত্রের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মন্তব্য