জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

লাকসাম জংশনে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু

কুমিল্লার লাকসামে এক মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার।

রেলওয়ে পুলিশ এবং স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে লাকসাম জংশনে আসা একটি মালবাহী ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন ওই ব্যক্তি। ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই রেললাইনে ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে জংশনের রেললাইনের ওপর থেকে সরিয়ে নেয়।

নিহতের বিবরণ ও পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। দুর্ঘটনার সময় তাঁর পরনে ছিল একটি নীল রঙের হাফপ্যান্ট, লাল-সাদা রঙের স্ট্রাইপযুক্ত একটি টি-শার্ট এবং পায়ে ছিল নীল রঙের কাপড়ের সাধারণ জুতা। তবে তাঁর কাছে পরিচয়পত্র, মোবাইল বা এমন কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হতো। জংশন এলাকায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা বা কোনো যাত্রীও তাঁকে আগে কখনও এই এলাকায় দেখেননি বলে জানিয়েছেন।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মরদেহটি উদ্ধার করে আপাতত থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিটি স্থানীয় নাকি দূরবর্তী কোনো এলাকার বাসিন্দা বা যাত্রী ছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি

রেলওয়ে থানা পুলিশ জানায়, মরদেহের পরিচয় জানার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বিষয়টির তদন্ত এবং নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে খবর দেওয়া হয়েছে। পিবিআইয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল খুব দ্রুত লাকসাম রেলওয়ে থানায় পৌঁছাবে। তারা বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে মরদেহের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহ করবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডেটাবেজের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখবে।

ওসি আরও উল্লেখ করেন, পিবিআই সদস্যদের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। লাকসাম রেলওয়ে থানায় এই বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরিচয় পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে এবং যদি কোনো পরিচয় শেষ পর্যন্ত না মেলে, তবে সরকারি নিয়মে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর