খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় একই দিনে পৃথক দুটি স্থান থেকে এক অজ্ঞাতনামা যুবক ও এক বয়োবৃদ্ধ অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নিমতলা রেলস্টেশন এলাকা এবং দক্ষিণ লতব্দী গ্রাম থেকে এই মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। একই দিনে দুই জায়গায় লাশ উদ্ধারের এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার বিকেলে সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা রেলস্টেশন এলাকা থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে নিমতলা রেলস্টেশনের অদূরে রেললাইনের পাশে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। পরে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এই বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাইয়ুম আলী জানান, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেললাইন পার হওয়ার সময় কোনো চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে বা ধাক্কা খেয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য আশেপাশের স্টেশনগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে সিরাজদিখান উপজেলার দক্ষিণ লতব্দী গ্রামে সড়কের পাশ থেকে নুরুল ইসলাম (৬৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত নুরুল ইসলাম উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চরগুলগলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৃদ্ধ বয়সেও তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
এই রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়ে সিরাজদিখান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, দুপুরের দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া নামক এলাকায় একটি বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সেই দুর্ঘটনায় নুরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং তাঁর উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম অটোরিকশাটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে যাতায়াতকারী কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দয়া পরবশ হয়ে নুরুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজেদের গাড়িতে তুলেছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে গাড়ির ভেতরেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা বা পুলিশি ঝামেলা এড়াতে ওই ব্যক্তিরা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ভেতরের দিকে এসে সিরাজদিখানের দক্ষিণ লতব্দী গ্রামের সড়কের পাশে মরদেহটি ফেলে রেখে দ্রুত চম্পট দেন।
নুরুল ইসলামের মরদেহটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর মরদেহ ফেলে চলে যাওয়া গাড়ি ও ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। পৃথক এই দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য