খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৮:৬ পিএম

মানিকগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক সাবিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনাটির তদন্তে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আসাদুজ্জামান (৩৪) হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পিবিআই মানিকগঞ্জ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তদন্তের অগ্রগতি এবং গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন বিকেলে বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যায় কিশোর চালক সাবিকুল ইসলাম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অল্প বয়সী এক অটোরিকশাচালকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্তকারীরা মাঠে নামেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে তদন্তকারীরা একপর্যায়ে আসাদুজ্জামানকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আসাদুজ্জামান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়াই নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাভারের হেমায়েতপুর মাদ্রাসা গেট এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানে একটি আবাসিক হোটেলের সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনার দিন আসাদুজ্জামান বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে সাবিকুলের অটোরিকশায় ওঠেন। পথে একটি ভাঙাচোরা সড়কে যানবাহনের ঝাঁকুনিকে কেন্দ্র করে চালকের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তারা রাস্তার পাশের একটি পাটক্ষেতে চলে যান। সেখানে আসাদুজ্জামান সাবিকুলকে মারধর করেন। পরে তার মুখ কাদার মধ্যে চেপে ধরে ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করলে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, ৩০ জুন বিকেল থেকে ১ জুলাই রাত আড়াইটার মধ্যে কোনো এক সময়ে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তদন্তের প্রতিটি ধাপ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে অভিযোগপত্র প্রস্তুতের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মন্তব্য