খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম

কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার হাজতখানা থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রুবেল মিয়া (২২) মাদকসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে থানা হাজতে ছিলেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল প্রায় ১০টার দিকে নিকলী থানা হাজত থেকে রুবেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার কারাপাশা ইউনিয়নের শহরমূল এলাকার বাসিন্দা এবং রাজা হাওলাদারের একমাত্র ছেলে।
পুলিশ জানায়, রুবেলের বিরুদ্ধে তার বাবার দায়ের করা একটি মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে নিকলী থানায় আনা হয় এবং হাজতখানায় রাখা হয়। পরে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতির সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে হাজতের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাকে নামিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তার মৃত্যু ঘটে।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রুবেল নিজের পরনের শার্ট খুলে হাজতের গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর নিহতের বাবা রাজা হাওলাদার বলেন, রুবেল তার একমাত্র সন্তান ছিলেন। অল্প বয়সেই তিনি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘদিন চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় তিনি নিজেই ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হন।
তিনি আরও জানান, রুবেল আগে প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেছিলেন। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার পরও তার আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। তিনি আবারও মাদকসেবনে জড়িয়ে পড়েন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে থাকেন। সর্বশেষ অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনিই পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ রুবেলকে গ্রেপ্তার করার পর তিনি থানায় গিয়ে তার জন্য খাবার ও কাপড়চোপড় দিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথেই জানতে পারেন, তার ছেলে থানা হাজতে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত থানায় ফিরে যান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত পরিচালনা করা হয়। এ ক্ষেত্রেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং মানসিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার পেছনের কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
মন্তব্য