খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ১২:৯ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সৃষ্টি করে মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানে এক আকস্মিক ও শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়। এতে ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর অন্তত ৮ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ এই খবর নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনেও এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সত্যতা উঠে এসেছে।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) ইরনার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণ ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই এলাকা—বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে এই ভয়াবহ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। নিহত সেনা সদস্যদের মধ্যে দেশটির বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা রয়েছেন। ট্রাম্পের হুমকির পরপরই মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো এই দুই অঞ্চলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আমেরিকার এমন পদক্ষেপকে ‘দুঃসাহসিকতা’ বলে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও সমুচিত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি গাল্ফ বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পুনরায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেন। আমেরিকার এই হামলাকে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছে তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আলী আকবর বেলায়েতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন:
“মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিমূলক বক্তব্য এবং দুই দেশের মধ্যকার প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক ভঙ্গের প্রকাশ্য ঘোষণা এই অঞ্চলকে আরও একবার আগুনের লেলিহান শিখার দিকে ঠেলে দিল। ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের শান্তি প্রচেষ্টা ধূলিসাৎ হয়ে গেল।”
তিনি তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, তারা বিশ্ববাসীকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এই অঞ্চল বড় শক্তির রাজনৈতিক জুয়া খেলার কোনো জায়গা নয়। অতীতেও ইরান প্রমাণ করেছে যে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা দুঃসাহসিকতার তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করবে না।
উপদেষ্টা বেলায়েতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আঙুল এখন ট্রিগারেই রয়েছে। আমেরিকা যদি তাদের এই সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না করে, তবে ইরান চুপ করে বসে থাকবে না। বুশেহর ও বন্দর আব্বাসের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই হামলার পর ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস ও নিয়মিত বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী এই রুটে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
মন্তব্য