খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

ডালাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে আজ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগাল। লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যদের এই লড়াইয়ের শেষ বাঁশি বাজতেই একটি দলের বিশ্বকাপ মিশন থমকে যাবে, আর অন্য দলটি টিকে থাকবে বিশ্বজয়ের ট্র্যাকে। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে জয়ী দলটি যদি স্পেন হয়, তবে তাদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন বেঁচে থাকবে। অন্যদিকে, পর্তুগাল জিতলে বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকবেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুধু মাঠের লড়াই নয়, এটি ইতিহাস, প্রতিশোধ এবং দুই দেশের ফুটবলীয় আবেগের এক মহাকাব্য। ফুটবল ইতিহাসে এই দুই প্রতিবেশীর লড়াই ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’ নামে পরিচিত। এর আগে বিশ্বমঞ্চে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের কেপ টাউনের গ্রিন পয়েন্ট স্টেডিয়ামে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিদায় করেছিল স্পেন। ডেভিড ভিয়ার সেই ঐতিহাসিক গোলে স্পেন ম্যাচটি জিতেছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেবার তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। কেপ টাউনের ওই জয়টি আজও স্প্যানিশ শিবিরের জন্য অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা।
আজকের এই ঐতিহাসিক মহা-লড়াইয়ের আগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান এবং দুই দলের শক্তির মূল জায়গাগুলো নিচে একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
| ক্র. নং | বিষয়ের বিবরণ / ফুটবলীয় সূচক | স্পেন (Spain) | পর্তুগাল (Portugal) |
| ১ | প্রধান কোচ | লুইস দে লা ফুয়েন্তে | রবার্তো মার্তিনেজ |
| ২ | মোট মুখোমুখি লড়াই (সর্বমোট) | ৪১ বার | ৪১ বার |
| ৩ | আইবেরিয়ান ডার্বিতে জয়ের সংখ্যা | ১৭টি ম্যাচ | ৬টি ম্যাচ |
| ৪ | নির্দলীয় বা ড্র হওয়া ম্যাচের সংখ্যা | ১৮টি ম্যাচ | ১৮টি ম্যাচ |
| ৫ | ২০১০ বিশ্বকাপের গ্রিন পয়েন্ট স্মৃতি | ১-০ গোলে জয়ী (কোয়ার্টার ফাইনাল যাত্রা) | ১-০ গোলে পরাজিত ও বিদায় |
| ৬ | ২০১৮ বিশ্বকাপের সোচি ড্রয়ের স্মৃতি | ৩-৩ গোলে ম্যাচ ড্র | ৩-৩ ড্র (রোনালদোর হ্যাটট্রিক) |
| ৭ | সাম্প্রতিক বড় শিরোপার লড়াই (নেশন্স লিগ) | রানার্স-আপ (পেনাল্টিতে হার) | চ্যাম্পিয়ন (স্পেনকে হারিয়ে ট্রফি জয়) |
| ৮ | খেলার মূল শৈলী বা ট্যাকটিকস | নিখুঁত পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণ (তিকিতাকা) | বিধ্বংসী প্রতি-আক্রমণ (কাউন্টার অ্যাটাক) |
| ৯ | দলের মূল চালিকাশক্তি ও তারকা | লামিনে ইয়ামাল এবং পেদ্রি | ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ |
| ১০ | আজকের ম্যাচের প্রধান ভেন্যু | এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম, আর্লিংটন, ডালাস | এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম, আর্লিংটন, ডালাস |
অন্যদিকে, পর্তুগালের স্মৃতিতে টাটকা হয়ে আছে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের সোচির ফিশট অলিম্পিক স্টেডিয়ামের সেই অবিস্মরণীয় ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে দুই দল ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল। পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সেদিন একাই হ্যাটট্রিক করে সোচিতে আগুন জ্বালিয়েছিলেন। পেনাল্টি, ফিল্ড গোল আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ফ্রি-কিক জাদুতে তিনি একাই খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। আজ ডালাসের মাঠে নামার আগে সোচির সেই স্মৃতি নিশ্চিতভাবেই সিআর সেভেনকে বাড়তি টনিক জোগাবে।
৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য এটিই হতে পারে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। স্বাভাবিকভাবেই ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে এই মহাতারকা নিজের শেষ বিশ্বকাপটি কতটা রাঙাতে পারেন, তা দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কোটি ভক্ত। তবে ২০১৮ সালের ৩৩ বছরের রোনালদোর সঙ্গে আজকের ৪১ বছরের রোনালদোকে মেলালে চলবে না। বয়সের ছাপ খেলায় কিছুটা পড়লেও ভক্তদের বিশ্বাস, এই বারুদ এখনো যেকোনো মুহূর্তে জ্বле ওঠার সামর্থ্য রাখে।
অতীত পরিসংখ্যানে পর্তুগিজরা কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক ফর্মে তারা মোটেও পিছিয়ে নেই। গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে এই স্পেনকেই পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলেছিল রোনালদোর দল। চলতি বিশ্বকাপে দুই দলের শক্তির ভারসাম্য প্রায় সমান। স্পেনের প্রধান অস্ত্র তাদের তরুণ প্রজন্ম। লামিনে ইয়ামাল ও পেদ্রির মতো তরুণ তুর্কিরা গতিশীল ও নিখুঁত কারুকাজভিত্তিক ফুটবল খেলছেন। স্পেনের চিরাচরিত পাসিং ফুটবল বা ‘তিকিতাকা’র বিপরীতে পর্তুগালের বড় শক্তি রোনালদোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, ব্রুনো ফার্নান্দেজের মাঝমাঠের সৃজনশীলতা এবং রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা। স্পেনের বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার কৌশলের বিপরীতে পর্তুগালের বিধ্বংসী কাউন্টার অ্যাটাক বা প্রতি-আক্রমণের এই লড়াই দেখতে ফুটবল বিশ্ব এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। টেক্সাসের ডালাসে আজ রাতজুড়ে ফুটবলের যে আগুন জ্বলবে, তাতে শেষ হাসি কে হাসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য