খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৭:৬ পিএম

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে কাঠবাদাম ভেবে বিষাক্ত ফল খেয়ে ১৪ জন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হলে বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং বাকি ৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশুদের মধ্যে রয়েছে মোস্তাকিন (১২), কাফি (১২), আমেনা খাতুন (৩), হালিমা (৯), রক্তিমা (১১), রিয়াদ (১১), ফেরদৌস (১০), ফুয়াদ (১২) এবং মোস্তাকিম (৯)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিকেলে প্রতিদিনের মতোই শিশুরা মাঠে খেলতে যায়। খেলার এক পর্যায়ে তারা রাস্তার পাশে একটি গাছে ছোট আকারের কিছু ফল দেখতে পায়। দেখতে ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় তারা সেটিকে কাঠবাদাম ভেবে খেয়ে ফেলে। পরে জানা যায়, সেটি ছিল স্থানীয়ভাবে জিয়ালা নামে পরিচিত একটি বিষাক্ত গাছের ফল, যা মূলত বার্বাডোজ নাট গাছের ফল হিসেবে পরিচিত।
প্রথমে কারও শরীরে কোনো অস্বস্তি দেখা না গেলেও কিছু সময় পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার পর একে একে শিশুদের তীব্র পেটব্যথা শুরু হয়। অনেকের বমি হতে থাকে, কেউ কেউ অসহ্য যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করতে থাকে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
এক শিশুর মা রজিনা খাতুন বলেন, সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে আমার ছেলে প্রচণ্ড পেটব্যথায় কাঁদতে শুরু করে। পরে দেখি তার সঙ্গে খেলা করা অন্য শিশুরাও একই উপসর্গে ভুগছে। এরপর দেরি না করে সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
চিকিৎসকরা জানান, এই ধরনের ফল বা গাছের পাতায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান শিশুদের শরীরে প্রবেশ করলে পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ায় বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. উমর ফারুক জানান, আক্রান্ত শিশুদের প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু সময় তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, তবে বড় কোনো ঝুঁকি নেই।
স্থানীয়রা মনে করছেন, শিশুদের গাছপালা ও বন্য ফল সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ গাছ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে।
মন্তব্য