খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৭:০ পিএম

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় জুলাই আন্দোলন ও এর স্মৃতিচিহ্নকে অবমাননা ও কটাক্ষ করার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে এ আন্দোলন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত বক্তব্য ছড়িয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছেন।
অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, শান্তা ফারজানা, সোমা ইসলাম এবং মোমিন মেহেদী।
রবিবার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগটি জমা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম সুইট। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষ আহত হন। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী এই ঘটনায় প্রায় এক হাজার চারশ জন নিহত এবং ত্রিশ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মতে, এই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে জুলাই আন্দোলন, এর স্মৃতিচিহ্ন এবং অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে একটি স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা অভিযোগকারীদের ভাষায় আন্দোলনের প্রতি সরাসরি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।
অন্যদিকে মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনকে পরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম এবং মোমিন মেহেদীর বিরুদ্ধেও আন্দোলন নিয়ে কটাক্ষপূর্ণ ও বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
এস এম সুইট বলেন, একটি রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের স্মৃতি নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য ও আচরণ জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তার দাবি, এ ঘটনাগুলো শুধু অনুভূতিকে আঘাত করেনি, বরং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কেও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, যারা আন্দোলনকে অবমূল্যায়ন করছে বা বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হবে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে সংবেদনশীল ইতিহাস ও স্মৃতির প্রতি অসম্মান হিসেবে বিবেচনা করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য