খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক দুই নেতার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় বিএনপি। মাদারগঞ্জ উপজেলা তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের সাবেক সভাপতি তামিম আহমেদ সবুজ এবং উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী সুলতানা আক্তার নিশুর দুটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাঁদের দুজনকে সব ধরনের দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। আজ রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আকন্দ রতন একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তামিম আহমেদ সবুজ ওরফে পিচ্চি সবুজ মাদারগঞ্জের বালিজুড়ী পশ্চিম পাড়া এলাকার লেবু মিয়ার ছেলে এবং সুলতানা আক্তার নিশু মোসলেমাবাদ এলাকার দারা মিয়ার স্ত্রী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের দুটি ভিন্ন ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতরে বসে তামিম আহমেদ সবুজ ও সুলতানা আক্তার নিশুর মধ্যে অত্যন্ত ব্যক্তিগত কথোপকথন চলছে এবং তাঁদের আচরণ ছিল বেশ ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে ৪৭ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জামালপুর শহরের ফ্লাইওভারের ওপর মোটরসাইকেলে চলার সময় তাঁরা একে অপরের সঙ্গে আপত্তিকরভাবে বসে আছেন। এই ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
তামিম আহমেদ সবুজ (পিচ্চি সবুজ): সাবেক সভাপতি, মাদারগঞ্জ উপজেলা তারেক জিয়া প্রজন্ম দল।
অভিযোগ: সিএনজি ও মোটরসাইকেলে মহিলা দল নেত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল।
গৃহীত ব্যবস্থা: সব ধরনের দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ।
সুলতানা আক্তার নিশু: নেত্রী, মাদারগঞ্জ উপজেলা মহিলা দল।
অভিযোগ: সাবেক প্রজন্ম দল নেতার সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল।
গৃহীত ব্যবস্থা: সব ধরনের দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ।
নিজাম উদ্দিন: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপি।
অভিযোগ: প্রবাসীর স্ত্রীকে আটকে রেখে শারীরিক সম্পর্ক ও লুটপাট।
গৃহীত ব্যবস্থা: দলীয় পদ স্থগিত।
এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তামিম আহমেদ সবুজ ও সুলতানা আক্তার নিশুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই লোকলজ্জার ভয়ে তাঁরা দুজনেই এলাকা ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। ফলে এই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আকন্দ রতন জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার কারণে তাঁদের আপাতত দলীয় কার্যক্রমে অংশ না নিতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তীতে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে বিতর্কের ঝড় এখানেই শেষ নয়। একই সময়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে আটকে রেখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং টাকা ও গহনা লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আকন্দ রতনের স্বাক্ষরিত আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজাম উদ্দিনের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিজাম উদ্দিন। তাঁর দাবি, উপজেলা বিএনপির ভেতরে থাকা একটি বিশেষ গ্রুপ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের নোংরা ষড়যন্ত্র করছে।
উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আকন্দ রতন স্পষ্ট ভাষায় গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) কোনো ধরনের দুষ্ট, অনৈতিক ও চরিত্রহীন লোকের ঠাঁই হবে না। দলের পদের অপব্যবহার করে বা ব্যক্তিগত জীবনে যে-ই অপরাধ করবে, তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাঁরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।
মন্তব্য