খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ৯:৩৮ পিএম

প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশটি অভিষেক আসরেই দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে সমর্থক, বিশ্লেষক এবং ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নিলেও তাদের এই স্মরণীয় যাত্রার স্বীকৃতি হিসেবে বড় অঙ্কের প্রাইজমানি পাচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্স ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে সবাইকে চমকে দেয় তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ সমতা আদায় করে নেয়। এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে অপরাজিত থেকেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের অভিষেক আসরেই এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।
নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে রক্ষণাত্মক ফুটবল না খেলে সাহসী আক্রমণাত্মক কৌশলেই এগোয় কেপ ভার্দে। ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়লেও দুইবারই সমতায় ফিরে আসে দলটি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১১১তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে হারতে হলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা এবং সংগঠিত ফুটবল দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। পরাজয়ের পরও কেপ ভার্দে মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ মঞ্চ ছাড়ে।
মাঠের এই সাফল্যের প্রতিফলন মিলছে আর্থিক দিকেও। ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের জন্য ফিফা মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি বরাদ্দ করেছে, যা আগের আসরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এই তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ পাবে, পাশাপাশি টুর্নামেন্টে যত দূর এগোবে, তত বাড়বে তাদের প্রাপ্তির পরিমাণ।
ফিফার নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি দল পাবে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রস্তুতি, ভ্রমণ এবং অন্যান্য সাংগঠনিক ব্যয় নির্বাহের জন্য দেওয়া হবে আরও ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। নকআউট পর্বে ওঠা এবং শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দলের জন্য অতিরিক্ত ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারও বরাদ্দ রয়েছে।
সব মিলিয়ে কেপ ভার্দের মোট প্রাপ্তি দাঁড়াবে অন্তত ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫৯ কোটিরও বেশি। ছোট একটি ফুটবল জাতির জন্য এই অর্থ শুধু পুরস্কার নয়, বরং ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এই অর্থ কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের তহবিলে জমা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, বয়সভিত্তিক দল গঠন, কোচ ও খেলোয়াড় তৈরির কর্মসূচি এবং দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল উন্নয়ন প্রকল্পে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের এই অভিযাত্রা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাফল্য অর্জনের জন্য বড় জনসংখ্যা বা বিপুল অর্থই একমাত্র শর্ত নয়। সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর ফুটবল কাঠামো, শৃঙ্খলাবোধ এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে ছোট দেশও বিশ্বমঞ্চে বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারে। অভিষেক বিশ্বকাপেই কেপ ভার্দে সেই বার্তাই শক্তভাবে তুলে ধরেছে।
মন্তব্য