খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৮:৫০ পিএম

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এক সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে পরিচালিত এই অভিযানের পর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আটক ব্যক্তি যৌথান বম (৫২)। তিনি থানচি সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং লালপিয়ান বমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত তিন দিন ধরে থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সকালে শেরকরপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে যৌথান বমকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাকে থানচি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সেনাবাহিনী থানচির দুর্গম এলাকা থেকে কেএনএফের এক সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনায় সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি, অস্ত্রের মজুত এবং সশস্ত্র তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ অস্ত্রধারী কিংবা সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য