খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ৪:১৭ পিএম

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় গুরুতর আহত এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই সোমবার গভীর রাতে পথেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত একেন মোল্লা (৬৫) শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আদালত মোল্লার ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বগুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতা রাকিবুল ইসলাম খান দিপুর সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৮ জুন বগুড়া গ্রামে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক প্রভাব বিস্তার এবং রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় একেন মোল্লা গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের কারণে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তিনি মারা যান।
একেন মোল্লার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শোকের পাশাপাশি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শৈলকুপার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, সামাজিক আধিপত্য এবং স্থানীয় নানা বিরোধকে কেন্দ্র করে সময়ে সময়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে ছোটখাটো বিরোধও দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় একজনের প্রাণহানির পর এলাকাবাসীর উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, এতে কারা সরাসরি অংশ নিয়েছে এবং ঘটনার পেছনে কারও উসকানি বা পরিকল্পিত ভূমিকা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বা সামাজিক বিরোধ যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে জন্য প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য