খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন ময়লার স্তূপের পাশ থেকে এক সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার গভীর রাতে নবজাতকটির কান্নার আওয়াজ শুনে স্থানীয় লোকজন ও চিকিৎসাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো হাসপাতাল চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, সোমবার রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় অবস্থান করছিলেন ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগীর স্বজন। হঠাৎ নিস্তব্ধ মাঝরাতে নিচ থেকে একটি শিশুর কান্নার শব্দ ভেসে আসে। প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্ত হলেও কান্নার তীব্রতা বাড়তে থাকলে তারা কর্তব্যরত নার্সদের বিষয়টি জানান। এরপর কয়েকজন নার্স ও রোগীর স্বজন টর্চলাইট নিয়ে নিচে নেমে হাসপাতাল চত্বরের ডাস্টবিনের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, একটি কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ফুটফুটে এক মেয়ে নবজাতক মাটিতে পড়ে কাঁদছে।
উপস্থিত সেবিকারা দ্রুত শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছোটেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় ও জরুরি সেবা দেন। কর্তব্যরত একজন নার্স জানান, নবজাতকটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল যে তার জন্ম সম্ভবত ওই রাতেই হয়েছে। জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে এমন নির্মমভাবে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। তবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে শিশুটির জন্ম গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রবল ধারণা, আশপাশের কোনো বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা অন্য কোনো অননুমোদিত স্থানে শিশুটির জন্ম হয়েছে। এরপর লোকচক্ষুর আড়ালে কোনো এক সময় তাকে এই সরকারি হাসপাতালের ডাস্টবিনের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়, যাতে কেউ না কেউ তাকে খুঁজে পায়।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাদ করিম এই বিষয়ে জানান, উদ্ধারের পর শিশুটিকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার মাথায় সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাটিতে ফেলে রাখার কারণে বা অন্য কোনোভাবে এই চোট লেগে থাকতে পারে। বিষয়টি জানার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করে। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পিতা-মাতার পরিচয়হীন এই শিশুটির ভাগ্য এখন কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। গজারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাব্বির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, নবজাতকটি আসলে কোথা থেকে এসেছে এবং কোন পরিস্থিতিতে কারা তাকে এভাবে ফেলে রেখে গেছে, তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও আশপাশের এলাকার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা শেষে নবজাতকের নিরাপদ আবাসন ও যথাযথ পরিচর্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা কার্যালয়, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পুলিশ।
মন্তব্য