খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ৫:০ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে অস্ত্র ও গুলিসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত করিয়ারদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতার হাতে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিল এলাকার মৃত উলা মিয়ার ছেলে নেজাম উদ্দিন (৩৭) এবং মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর প্রায় চারটার দিকে ১২ জনের একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে করিয়ারদিয়া এলাকায় একটি মাছের ঘের দখলের উদ্দেশ্যে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তাঁদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে দলের অধিকাংশ সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও নেজাম উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামকে স্থানীয়রা আটক করেন। তাঁদের কাছ থেকে দেশে তৈরি দুটি বন্দুক, দুটি তাজা গুলি এবং ১২টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাও স্থানীয়দের সহায়তায় জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, করিয়ারদিয়ার মতো বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে মাছের ঘেরকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যেই বিরোধের সৃষ্টি হয়। এসব বিরোধ অনেক সময় সংঘর্ষ বা সহিংসতায় রূপ নেয়। তাই অস্ত্র নিয়ে একটি দল এলাকায় প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে আটক দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতেও পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, আটক দুই আসামিকে শনিবার সকালে চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে। উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলি, খালি কার্তুজ এবং জব্দ নৌকা আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না এবং মাছের ঘের দখলচেষ্টার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য