খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ৪:৫১ পিএম

পাবনার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক বিএনপি কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মঞ্জু শেখ (৩৫)।
নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, তিনি দলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পারিবারিকভাবে তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর ভাতিজা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মার চর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবারও একই বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সকালে কয়েকজন পদ্মার চরে বালুর মজুত রয়েছে কি না তা দেখতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং মঞ্জু শেখ মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পুরো চরাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়।
সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ অভিযোগ করেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোক পদ্মার চর থেকে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছিল। তার দাবি, মঞ্জু শেখ এতে বাধা দিতে গেলে কয়েকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যার ফলে তিনি নিহত হন। তবে কারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মঞ্জু শেখের মাথার পেছনে গুলি লেগেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে আলামত সংগ্রহ করছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অতীতেও বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ, সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য