খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুন ২০২৬, ৪:১৭ পিএম

লিওনেল মেসিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের আবেগ ও ভালোবাসা যেন সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। আর্জেন্টাইন মহাতারকার ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষে এবার তার সম্মানে উন্মোচন করা হয়েছে ৮৫ ফুট উঁচু এক বিশাল ভাস্কর্য। আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়া অঞ্চলের কাট্রাল কো শহরে নির্মিত এই স্থাপনাটি বর্তমানে মেসিকে উৎসর্গ করে তৈরি হওয়া সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জন্মদিনের আগেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন কীর্তি গড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে পৌঁছে যান। ওই ম্যাচে করা তার ১৭তম ও ১৮তম বিশ্বকাপ গোল তাকে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড অতিক্রম করতে সহায়তা করে। ফলে জন্মদিনের আবহে মেসিকে ঘিরে উদযাপনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের পরপরই তেলসমৃদ্ধ শহর কাট্রাল কো-তে উন্মোচন করা হয় বিশালাকৃতির ভাস্কর্যটি। প্রায় ২৬ মিটার বা ৮৫ ফুট উচ্চতার এই স্মারক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৭০ টন ইস্পাত। দীর্ঘ ১৮ মাসের শ্রম ও পরিকল্পনার ফল হিসেবে দাঁড়িয়েছে এই শিল্পকর্ম।
স্থানীয় ভাস্কর আলদো বেরোইসার নির্মিত ভাস্কর্যটির মূল অনুপ্রেরণা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পরের এক স্মরণীয় মুহূর্ত। ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর লুসাইল স্টেডিয়ামের মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা মেসির আবেগঘন দৃশ্য এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে এক হাতে আর্জেন্টিনার জার্সি ধরে অন্য হাতের তর্জনী আকাশের দিকে উঁচিয়ে ধরা তার বিখ্যাত উদযাপনের ভঙ্গিও স্থান পেয়েছে। মেসি দীর্ঘদিন ধরে এই উদযাপনটি তার প্রয়াত দাদির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে করে আসছেন।
মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এর আগেও নানা স্মারক নির্মিত হয়েছে। সম্প্রতি ভারতে তার সম্মানে নির্মিত ৭০ ফুট উচ্চতার একটি মূর্তিও আলোচনায় আসে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কারণ প্রবল বাতাসে মূর্তিটি দুলতে শুরু করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
ভাস্কর্যের পাশাপাশি দেয়ালচিত্রেও মেসির জনপ্রিয়তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আইয়ার্সের উপকণ্ঠে সম্প্রতি আঁকা হয়েছে একটি বিশাল ম্যুরাল, যেখানে ১,৩০০-এর বেশি সমর্থক নিজেদের নাম যুক্ত করে অংশ নিয়েছেন। প্রায় ২০ ফুট চওড়া ও ১৮ ফুট উঁচু এই শিল্পকর্ম সম্পন্ন করতে শিল্পী লিওনেল গার্সিয়ার সময় লেগেছে ১৮ দিন।
সমর্থকদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্মানে আবেগাপ্লুত মেসি এক ভিডিও বার্তায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও স্বীকৃতি তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এবং এটি তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে।
মাঠের সাফল্য, বিশ্বকাপ জয় এবং একের পর এক রেকর্ডের পাশাপাশি মেসির প্রতি বিশ্বব্যাপী মানুষের আবেগ যে কতটা গভীর, কাট্রাল কো-তে নির্মিত এই বিশাল ভাস্কর্য তারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকল।
মন্তব্য