বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন নাহিদা আক্তার। প্রথম বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুইশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেলেছেন। এই অর্জনটি এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, যেখানে তার দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্কোর দাঁড় করায়। পরে লক্ষ্য তাড়া করতে নামা পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। বাংলাদেশের বোলাররা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে বড় কোনো জুটি গড়তে দেয়নি। এই চাপ তৈরির নেতৃত্বে ছিলেন নাহিদা আক্তার।
নাহিদা আক্তার চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। তার নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেন্থ পাকিস্তানি ব্যাটারদের কোনো সুযোগই দেয়নি। বিশেষ করে মাঝের ওভারে তার টানা আক্রমণ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার এই বোলিং নৈপুণ্যের ফলেই পাকিস্তান বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ২৩ রানে পরাজিত হয়।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শুধু ম্যাচ জয়ই নয়, ব্যক্তিগত অর্জনেও ইতিহাস গড়েন নাহিদা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০০-তে, যা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো কোনো বোলারের জন্য অনন্য কীর্তি।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দেওয়া এক ভিডিও বিবৃতিতে নাহিদা বলেন, দল ভালো একটি ম্যাচ জিতেছে, এ জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, এই ২০০ উইকেটের অর্জন তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং এটি সম্ভব হয়েছে সতীর্থদের সহযোগিতা ও সমর্থনের কারণে। দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সবার অবদান ছাড়া এই মাইলফলক অর্জন সম্ভব হতো না।
নিচে তার ম্যাচ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
বিষয়
পরিসংখ্যান
ওভার
৪
রান
১৮
উইকেট
৩
আন্তর্জাতিক উইকেট (মোট)
২০০
ম্যাচ ফল
বাংলাদেশ ২৩ রানে জয়ী
এই অর্জন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় নতুন অনুপ্রেরণা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নাহিদা আক্তারের ধারাবাহিকতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং চাপের মুহূর্তে পারফর্ম করার সক্ষমতা তাকে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বোলারে পরিণত করেছে। তার এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী ক্রিকেটারদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ দল এই জয় দিয়ে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে।
মন্তব্য