রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন রামপুরা টেলিভিশন কেন্দ্র সংলগ্ন ব্যস্ত সড়কে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ, যিনি কাইল্লা পলাশ নামেও পরিচিত, সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৭ মিনিটে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক জনজীবন কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজ শেষে কাইল্লা পলাশ রামপুরা টেলিভিশন কেন্দ্রের বিপরীত পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে দ্রুত কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। হামলাকারীরা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন প্রথমে শব্দ শুনে হতবাক হয়ে পড়েন এবং পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে তার আঘাতের মাত্রা ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ, জড়িতদের পরিচয় এবং সম্ভাব্য পূর্বশত্রুতার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিও নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দিনের বেলায় এমন ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্য গুলিবর্ষণের ঘটনা তাদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। তাদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার দিকটিই প্রকাশ করে। ঘটনার সময় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয় এবং আশপাশের দোকানপাটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের মধ্যে পুরনো শত্রুতা বা আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব থেকেই এ ধরনের হামলা ঘটতে পারে। তবে জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুতর সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা আরও বলছেন, এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে এবং নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনের মোটিভ, সম্ভাব্য শত্রুতা এবং পূর্ববর্তী অপরাধমূলক বিরোধের দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | রামপুরা টেলিভিশন কেন্দ্র এলাকা, হাতিরঝিল |
| সময় | শুক্রবার, দুপুর ১টা ৪৭ মিনিট |
| ভুক্তভোগী | ইয়াসিন খান পলাশ (কাইল্লা পলাশ) |
| হামলাকারী | মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি |
| ঘটনার ধরন | লক্ষ্য করে গুলি চালানো |
| বর্তমান অবস্থা | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| তদন্ত অবস্থা | পুলিশ তদন্ত অব্যাহত |
এই ঘটনার পর রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
