খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুন ২০২৬, ৪:২৯ পিএম

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আফসানা (১৮) গর্ভপাতের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় তার স্বামী মো. আলী আকবর (২৬) গুরুতর আহত হন। বর্তমানে আফসানা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নেছারাবাদ উপজেলার একটি এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী চান মিয়া, রওসোনারা, রুমানা, শিমুলসহ ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি আলী আকবরের ওপর হামলা চালান। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অন্তঃসত্ত্বা আফসানাকেও মারধর করা হয়।
আফসানার বাবা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত ২০১৪ সালের একটি ধর্ষণ মামলাকে কেন্দ্র করে। তার দাবি অনুযায়ী, তার বোনের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ের ওপর ঘটিত ঘটনার পর আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলমান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আহত দম্পতিকে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইন্দেরহাট বাজার এলাকায় আবারও হামলার শিকার হতে হয়। এ ঘটনায় অনিক ও কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কিছু কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও তিনি করেন। পরে নেছারাবাদ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আলী আকবরকে তিন দিন ভর্তি রাখা হয় এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় আফসানাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, হামলার কারণে আফসানার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে আলী আকবর কিছুটা শঙ্কামুক্ত হলেও আফসানার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিচে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | নেছারাবাদ উপজেলা, পিরোজপুর |
| ঘটনা | সংঘবদ্ধ হামলা ও শারীরিক নির্যাতন |
| ভুক্তভোগী | আফসানা (১৮), মো. আলী আকবর (২৬) |
| গর্ভাবস্থা | দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা (অভিযোগ অনুযায়ী গর্ভপাত) |
| হামলার তারিখ | বৃহস্পতিবার, ৪ জুন |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | নেছারাবাদ উপজেলা হাসপাতাল, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
ঘটনার সময় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নারী জানান, আফসানাকে মারধরের সময় তারা প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
আফসানা বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তার স্বজন সাহিনুর বেগম জানান, আফসানা এখন কথা বলার অবস্থায় নেই এবং পরিবার ন্যায়বিচার দাবি করছে।
বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন তবে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেনি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অনিক দাবি করেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি এবং তার পরিবারের সদস্যদের ওপরই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। চান মিয়া ও রওসোনারাও একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
নেছারাবাদ থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে চিকিৎসা সনদসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নেছারাবাদ উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, আক্রান্ত নারী ৪ জুন ভর্তি হন এবং ৬ জুন আকস্মিক রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।
ঘটনা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য