ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজ পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বন্ধুদের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর মো. মোকরামিন হাসান রাফি (২৫) নামে এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বয়রা বাজার সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের বয়রা ঘাট এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাঁর মৃতদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

ঘটনার বিবরণ ও শিক্ষার্থীর পরিচয়

নিহত মো. মোকরামিন হাসান রাফি গৌরীপুর উপজেলার বয়রা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন (বুধবার) বিকেল ৩টার দিকে রাফি তাঁর তিন বন্ধুর সঙ্গে স্থানীয় ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে গিয়েছিলেন। গোসলের একপর্যায়ে তাঁরা সবাই মিলে সাঁতরে নদীর গভীর পানির দিকে চলে যান। সেখানে নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়েন তাঁরা। রাফির সঙ্গে থাকা অন্য দুই বন্ধু কোনো রকমে সাঁতরে নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হলেও রাফি তীব্র স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যান এবং নিখোঁজ হন।

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান

সহপাঠী ও স্থানীয়দের মাধ্যমে রাফির তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। তারা বুধবার বিকেল থেকেই নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে ব্রহ্মপুত্র নদে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়েও রাফির কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে আলো স্বল্পতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বুধবার রাতের মতো উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

পরদিন ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলটি পুনরায় দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকালের অভিযানের একপর্যায়ে সাড়ে ৮টার দিকে বয়রা ঘাট এলাকা থেকে ডুবুরিরা নিখোঁজ রাফির নিথর দেহ উদ্ধার করে নদীর তীরে নিয়ে আসেন।

আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য

খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর নিহত রাফির পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলটি নিহতের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেছে। এই দুঃখজনক ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ বা দাবি উত্থাপন করা হয়নি। তবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের অংশ হিসেবে এ বিষয়ে গৌরীপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে থানা প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।