ঢাকার পুঁজিবাজারে প্রায় নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক লেনদেনের রেকর্ড হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট ১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। ওই দিন ডিএসইতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি এদিন বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হওয়া কোম্পানির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দিনের শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৪৪১ পয়েন্টে অবস্থান করে। একই সঙ্গে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেনের ধারাবাহিকতায়ও উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ঈদুল আজহার ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস সোমবার ডিএসইতে ৯০০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার লেনদেন হয়। পরদিন মঙ্গলবার লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০ কোটি টাকায়। বুধবার সেই ধারা আরও শক্তিশালী হয়ে ১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
এর আগে সর্বশেষ ১২ মে ডিএসইতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল। ওই দিন মোট ১ হাজার ১০১ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়। এরও আগে গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত বাজারে দৈনিক লেনদেন হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। তবে ৮ এপ্রিল লেনদেন প্রায় ৯৯২ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বাজারে লেনদেনের গতি বেড়েছিল। ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি টানা তিন কার্যদিবসে ডিএসইতে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল।
বুধবারের বাজারে মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৪৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৯৮টির কমেছে এবং ৪৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, দিনটির লেনদেনে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
দিনের লেনদেন ও বাজারচিত্র
| সূচক | পরিমাণ |
|---|---|
| মোট লেনদেন | ১,২৭৯ কোটি টাকা |
| প্রধান সূচক (ডিএসইএক্স) | ৫,৪৪১ পয়েন্ট |
| সূচক বৃদ্ধি | ৩৫.৪৫ পয়েন্ট |
| লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ইউনিট | ৩৯০টি |
| দর বেড়েছে | ২৪৩টি |
| দর কমেছে | ৯৮টি |
| অপরিবর্তিত | ৪৯টি |
বাজারের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে প্রকৌশল, বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়ন খাত। এসব খাতের শেয়ার কেনাবেচা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
শেয়ারদরের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্লোজিং প্রাইস অনুযায়ী দিনটির শীর্ষে ছিল দেশ গার্মেন্টস। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সার্কিট ব্রেকার সীমা কার্যকর থাকায় এর বেশি দর বাড়ার সুযোগ ছিল না। দিনের শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ছিল ১৪০ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে এর মূল্য ছিল ১২৮ টাকা।
দরবৃদ্ধির তালিকায় আরও ছিল ইসলামী কমার্শিয়াল, জেনেক্স ইনফোসিস এবং ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেড। অন্যদিকে মূল্যহ্রাসের দিক থেকে শীর্ষে ছিল ইয়াকিন পলিমার, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক এবং ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স।
সব মিলিয়ে বুধবারের লেনদেন, সূচকের উত্থান এবং অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি ডিএসইতে একটি সক্রিয় ও উচ্চ লেনদেনমুখী বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
