নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম হার

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক আসর হিসেবে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডস নারী দলের বিপক্ষে ৮ রানে হেরেছে টাইগ্রেসরা। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে ডাচ নারীরা।

এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো সংস্করণেই বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়লাভ করতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। এদিনের কাঙ্ক্ষিত জয়ের মাধ্যমে ডাচদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল। অন্যদিকে, ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুটি ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্টে বেশ চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ দল।

ডাচদের ইতিবাচক ব্যাটিং ও লড়াকু পুজি

স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে সোমবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই অত্যন্ত ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকে নেদারল্যান্ডসের নারী দল। ডাচ ওপেনার হেথার সিজারের চমৎকার হাফসেঞ্চুরি বা অর্ধশতক এবং মধ্যক্রমের ব্যাটারদের কার্যকর ও দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬২ রানের একটি লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় নেদারল্যান্ডস।

বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের অভাব এবং ডাচ ব্যাটারদের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে স্বাগতিক কন্ডিশনে রান তোলার গতি সচল ছিল। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ফারিহা তৃষ্ণা, যিনি গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া পেসার মারুফা আক্তার ও স্পিনার রাবেয়া খান একটি করে উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে কিছুটা চেপে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।

রান তাড়া করতে নেমে টাইগ্রেসদের ব্যাটিং বিপর্যয়

১৬৩ রানের লড়াকু লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ নারী দল। দলের ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ২৪ বল খেলে মাত্র ২২ রান করে বিদায় নেন। দলের টপ অর্ডার ও মধ্যক্রমের অন্য ব্যাটাররা উইকেটে থিতু হতে পারলেও বড় কোনো ইনিংস খেলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।

দলের অন্য প্রান্তের ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝেও একপ্রান্ত আগলে রেখে এককভাবে লড়াই চালিয়ে যান দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তিনি ডাচ বোলারদের দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করে ব্যক্তিগত ৭৭ রানের একটি দুর্দান্ত এবং দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তবে দলের অন্য ব্যাটারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তাঁর এই একক লড়াই শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়।

শেষ ওভারের উত্তেজনা ও ঐতিহাসিক ডাচ জয়

ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শেষ তিন বলে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল দুটি ছক্কার। ডাচ স্পিনার হেথার সিজারের করা ওভারের চতুর্থ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ আউট হন সেট ব্যাটার নিগার সুলতানা জ্যোতি।

জ্যোতির বিদায়ের পর পরের বলেই একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন নাহিদা আক্তার। পরপর দুই বলে দুই উইকেটের পতনে ১৫৪ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এর ফলে ৮ রানের এক ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে নেদারল্যান্ডস নারী দল।

এই পরাজয়ের ফলে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসরে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের নারী দলের শক্তি ও দুর্বলতার দিকগুলো আরও একবার প্রকাশ্যে এল। বিশেষ করে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে অধিনায়ক ছাড়া বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতা এবং শেষ ওভারের স্নায়ুচাপ ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি আগামী ম্যাচগুলোর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল।