যশোরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ মোট বিশটি মামলার আসামি কামরুল ইসলাম ওরফে ‘খোঁড়া’ কামরুল (৪৭) কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতার কামরুল যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে।
রোববার (৩১ মে) সকালে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা কামরুলকে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র আইনের মামলায় খালিদুর রহমান টিটু এবং শেখ মইনুদ্দিন ফেরদৌস নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ওই অস্ত্রের সঙ্গে কামরুল ইসলামের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এরপর থেকেই তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩০ মে) বিকেলে শহরের মিশনপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে কামরুল ইসলামকে আটক করে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারের সময় তিনি সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কামরুল ইসলাম যশোর শহর ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একাধিক ধরনের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি হত্যা মামলা, অস্ত্র আইনে ছয়টি মামলা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে চারটি মামলা, চাঁদাবাজি আইনে সাতটি মামলা, বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা এবং মাদক আইনে একটি মামলা। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট বিশটি মামলা চলমান রয়েছে।
নিচে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ধরন সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| মামলার ধরন | সংখ্যা |
|---|---|
| হত্যা মামলা | ১টি |
| অস্ত্র আইনের মামলা | ৬টি |
| বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা | ৪টি |
| চাঁদাবাজি মামলা | ৭টি |
| বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা | ১টি |
| মাদক আইনের মামলা | ১টি |
| মোট | ২০টি |
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত কামরুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা পূর্ববর্তী মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এ ধরনের আসামিদের গ্রেফতার স্থানীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করবে এবং এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়তা করবে।
