বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। পবিত্র ঈদের দিন সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও চারজন তরুণ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে শেরপুর-কাজীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার অন্তর্গত শুভগাছা সাফলজানি নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফাঁকা সড়ক এবং অতিরিক্ত গতিবেগের কারণে তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
এই সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারানো দুই তরুণের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের মধ্যে একজন হলেন শেরপুর পৌর শহরের উলিপুর মহল্লার বাসিন্দা হারুনুর রশিদের পুত্র আবু রায়হান। আঠারো বছর বয়সী এই তরুণ বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনায় নিহত অপর তরুণ হলেন শেরপুর উপজেলার শেরুয়া বটতলা এলাকার ফুলতলা গ্রামের প্রবাসী নান্নু মিয়ার পুত্র তামিম হোসেন। আঠারো বছর বয়সী তামিম শেরপুরের শেরউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
এই একই দুর্ঘটনায় আরও চারজন তরুণ গুরুতর শারীরিক আঘাত পেয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত তরুণরা হলেন মো. রাজন, মো. সিয়াম, মো. হাসান এবং মো. ছামির। দুর্ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিচে একটি সুবিন্যস্ত টেবিলের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের অবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| ব্যক্তির নাম | বয়স | বর্তমান অবস্থা | প্রাতিষ্ঠানিক বা পারিবারিক পরিচয় |
| আবু রায়হান | ১৮ বছর | নিহত | শিক্ষার্থী, বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট |
| তামিম হোসেন | ১৮ বছর | নিহত | একাদশ শ্রেণি, শেরউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ |
| মো. রাজন | (নির্দিষ্ট তথ্য নেই) | চিকিৎসাধীন | শেরপুর এলাকার বাসিন্দা |
| মো. সিয়াম | (নির্দিষ্ট তথ্য নেই) | চিকিৎসাধীন | শেরপুর এলাকার বাসিন্দা |
| মো. হাসান | (নির্দিষ্ট তথ্য নেই) | চিকিৎসাধীন | শেরপুর এলাকার বাসিন্দা |
| মো. ছামির | (নির্দিষ্ট তথ্য নেই) | চিকিৎসাধীন | শেরপুর এলাকার বাসিন্দা |
দুর্ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের উদ্ধার কাজ
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন হওয়ায় আঞ্চলিক এই মহাসড়কটি অন্যান্য দিনের তুলনায় সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে মোটরসাইকেলগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলাচল করছিল। রাত সাড়ে আটটার দিকে ধুনট উপজেলা থেকে শেরপুর অভিমুখী দুটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি মোটরসাইকেলই সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়।
এই ঘটনার ফলে তিন মোটরসাইকেলে থাকা মোট ছয়জন আরোহীর সবাই ছিটকে পড়ে পিচঢালা সড়কে গুরুতর জখম হন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু রায়হানকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে স্থানান্তর ও পুলিশি তৎপরতা
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসাধীন অপর পাঁচজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্স যোগে বগুড়ার ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তামিম হোসেন নামের দ্বিতীয় তরুণটি মারা যান। বাকি চারজন আহত তরুণকে বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনার বিষয়ে শেরপুর থানার উপপরিদর্শক বিকাশ চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। দুর্ঘটনাকবলিত দুমড়েমুচড়ে যাওয়া তিনটি মোটরসাইকেলই সড়ক থেকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
