গলায় খাবার আটকে জামালপুরে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় গরুর মাংস খাওয়ার সময় গলায় আটকে মো. ইয়াসিন মিয়া (১২) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের পোড়ারচর নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইয়াসিন ওই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় বটচর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ইয়াসিন পরিবারের সঙ্গে ঘরে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। ভাতের সঙ্গে গরুর মাংস খাওয়ার একপর্যায়ে হঠাৎ করে মাংসের একটি অংশ তার গলায় আটকে যায়। এতে সে শ্বাস নিতে এবং স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে সমস্যায় পড়ে।

পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে গলায় আটকে যাওয়া খাদ্যবস্তু বের করার চেষ্টা করেন। তবে তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তাকে দ্রুত ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা যায়, গলায় খাদ্যবস্তু আটকে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএএম আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইয়াসিন নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করত এবং পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার খাওয়ার সময় বড় বা অর্ধচিবানো খাদ্যবস্তু গলায় আটকে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা আরও দ্রুত প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রাথমিক সহায়তা ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, খাবার ধীরে খাওয়া, ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া এবং শিশুদের ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধানে খাওয়ানোর অভ্যাস এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমাতে পারে।

ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো অপমৃত্যুর মামলা বা আইনগত পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসলামপুরের এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবার সদস্যরা শিশুটির অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং এলাকাবাসী ঘটনাটিকে মর্মান্তিক হিসেবে বর্ণনা করছেন।