দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত

সারাদেশে অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে রাজধানীর সদরঘাটসহ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত

মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এবং কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে পদ্মা নদী প্রচণ্ড উত্তাল হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ) যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল স্থগিত করার নির্দেশ দেয়।

বিআইডব্লিউটিএর এজিএম মোহাম্মদ সালাম জানান, কালবৈশাখী ঝড় ও প্রবল বৃষ্টির কারণে নৌপথে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় এবং নদী উত্তাল থাকায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট রুটে চলাচলকারী সকল নৌযানকে নিরাপদ স্থানে নোঙর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

যাত্রী দুর্ভোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল ঘাট এলাকাগুলোতে। আকস্মিক নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে বা টার্মিনালগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

নৌরুটে নিয়োজিত নৌযানের পরিসংখ্যান

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে পর্যাপ্ত নৌযান মোতায়েন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে নিয়মিত চলাচলকারী নৌযানের বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

নৌযানের ধরনপাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট রুট
ফেরি (মোট)২৬টি
লঞ্চ (মোট)৩২টি
স্পিডবোট (মোট)৬৭টি

নিরাপত্তা নির্দেশনা

বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, কালবৈশাখীর মৌসুমে হুটহাট আবহাওয়া পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে। তাই মাঝনদীতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সর্তকতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। নদী শান্ত হলে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে সংকেত পাওয়া মাত্রই পুনরায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল শুরু হবে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ঘাটগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন এবং যাত্রীদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নদীর মাঝপথে থাকা ফেরিগুলোকে নিকটস্থ চরে বা ঘাটে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।