তিন প্রজন্মের মেলবন্ধনে হাবিব, কায়া ও মুজার নতুন গান

বাংলাদেশের পপ ও লোকসংগীতের মিশ্রণ বা ফিউশন ধারায় ২০০৩ সালে এক নতুন স্বাদ নিয়ে এসেছিল ‘কৃষ্ণ’ নামক একটি বিশেষ গানের অ্যালবাম। লোকগানের আধুনিকায়নে তৈরি এই অ্যালবামে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদ এবং প্রবীণ লোকসংগীতশিল্পী কায়ার যুগলবন্দী তৎকালীন শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। এর ঠিক পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৪ সালে, কায়া এবং হেলাল নামের অপর এক শিল্পীকে সঙ্গে নিয়ে হাবিব ওয়াহিদ ‘মায়া’ শিরোনামে আরেকটি সফল গানের অ্যালবাম শ্রোতাদের উপহার দেন। সেই ঐতিহাসিক সূচনার দীর্ঘ বাইশ বছর পর আবারও একসঙ্গে ফিরছেন হাবিব ও কায়া জুটি। আগামী ২৭ মে ২০২৬ তারিখে হাবিব ওয়াহিদের নিজস্ব ভিডিও বিনিময় মাধ্যম বা ইউটিউব চ্যানেলে এই জুটির নতুন গান ‘কই রইলা রে’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই নতুন গানে বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় তরুণ সংগীতশিল্পী মুজা তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

তিন প্রজন্মের মেলবন্ধন ও শিল্পীদের অনুভূতি

দীর্ঘ বাইশ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর কায়ার সঙ্গে পুনরায় কাজ করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। নতুন এই গানটি নিয়ে নিজের গভীর রোমাঞ্চ প্রকাশ করে হাবিব ওয়াহিদ বলেন, ‘এই গানটি নিয়ে আমি ভীষণভাবে আশাবাদী এবং রোমাঞ্চিত। কারণ, প্রায় ২২ বছর পর কায়া ভাইয়ের সঙ্গে আমার নতুন কোনো গান মুক্তি পেতে যাচ্ছে। গানটির কণ্ঠ ধারণ বা রেকর্ডিংয়ের কাজ বেশ কিছু দিন আগে সম্পন্ন হলেও, বর্তমান সময়ের আধুনিক সংগীতের ধারা, শৈলী এবং উপস্থাপন পদ্ধতি বা অ্যাপ্রোচ অনুযায়ী এর নতুন সংগীতায়োজন করা হয়েছে।’

কায়া, হাবিব এবং মুজা—সংগীতের এই তিন ভিন্ন প্রজন্মের মেলবন্ধনকে হাবিব ওয়াহিদ ভবিষ্যতের জন্য একটি দারুণ ও স্মরণীয় স্মৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিজের সংগীত জীবনের শুরুর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘কায়া ভাইয়ের মাধ্যমে খাঁটি সিলেটি লোকগান দিয়ে আমি আমার সংগীতের পেশাদার কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। অন্যদিকে, তরুণ সংগীতশিল্পী মুজাও জন্মসূত্রে সিলেটের সন্তান। সে শৈশবকাল থেকেই কায়া ভাইয়ের কণ্ঠের ”কৃষ্ণ” এবং ”মায়া” অ্যালবামের গানগুলো শুনে সংগীতের প্রতি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, আমরা তিনজন প্রথমবারের মতো একটি গানে একসঙ্গে সমবেত হয়েছি। আশা করি, শ্রোতারা অত্যন্ত মানসম্পন্ন এবং ভালো কিছু পেতে যাচ্ছেন।’

নিচে এই নতুন গানের বিভিন্ন তথ্যাদি, শিল্পী ও নেপথ্য কারিগরদের বিবরণ ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

গানের শিরোনাম ও ভাষামূল কণ্ঠশিল্পী ও সুরকারনতুন সংস্করণ ও সংগীত পরিচালকমূল গীতিকার ও সুরকারমুক্তির তারিখ ও মাধ্যম
কই রইলা রে (সিলেটি লোকগান ভিত্তিক)কায়া (প্রবীণ লোকশিল্পী)হাবিব ওয়াহিদ এবং মুজা (তরুণ সংগীতশিল্পী)সৈয়দ দুলাল (সিলেটের লোকশিল্পী)২৭ মে ২০২৬ (ইউটিউব চ্যানেল)

গানের মূল ভাব, লেখক ও সুরকার পরিচিতি

নতুন এই আধুনিক সংস্করণের গানটির মূল রচয়িতা বা লেখক এবং সুরকার হলেন সিলেটের প্রখ্যাত লোকশিল্পী সৈয়দ দুলাল। এটি মূলত একটি প্রচলিত সিলেটি লোকগানের নতুন রূপ বা রিমেক সংস্করণ হলেও, সমকালীন শ্রোতাদের কথা বিবেচনা করে এতে হাবিব ওয়াহিদ এবং মুজার নিজস্ব অংশে কিছু নতুন আধুনিক কথা বা লিরিক যুক্ত করা হয়েছে।

গানটির মূল প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্নিহিত ভাবধারা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে হাবিব ওয়াহিদ উল্লেখ করেন যে, এই সৃষ্টিটি মূলত একটি আধ্যাত্মিক ঘরানার গান। গানের বাণীর মাধ্যমে মানবজীবনের ছোট ছোট ও অতি সাধারণ সুন্দর মুহূর্তগুলোর মাঝে পরম স্রষ্টার অস্তিত্ব, মহিমা কিংবা অন্তরের অনাবিল প্রশান্তি খুঁজে পাওয়ার এক সুগভীর দর্শন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তিন প্রজন্মের এই যৌথ প্রয়াস বাংলা লোকসংগীতের আধুনিকায়নে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংগীত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।