ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় একটি সরকারি কলেজের মাঠে তালা ভেঙে জোরপূর্বক পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, এ ধরনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানোর কোনো বিধান নেই। কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীও মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে একটি রেজুলেশন গ্রহণ করা হয়। গত বুধবার (২০ মে) বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও পরে তারা চলে গেলে আয়োজকরা কলেজের প্রধান ফটকের তিনটি তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে হাট বসায়।

তিনি আরও বলেন, “সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে। আমরা লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছি, তবুও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা বুঝতে পারছি না।”

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে অনুমতির দাবি নাকচ করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষ হাটের জন্য আবেদন করলেও কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি বলেন, “আমরা কোনো অনুমতি দিইনি। অধ্যক্ষ গেটে তালা দেওয়ার পরও সেই তালা ভেঙে হাট বসানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চিলমারীর ইউএনও-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জিহাদ ফেরদৌস চমক দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম মেনেই হাট বসিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অস্থায়ী হাটের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জামানত জমা দেওয়া হয়েছে এবং ডিসি অফিসের অনুমতি নিয়েই কলেজ মাঠে হাট বসানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যগতভাবে ওই মাঠে অস্থায়ী হাট বসে আসছে।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুমতির পক্ষে কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিও গণমাধ্যমে কোনো লিখিত অনুমতিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা, অনুমতির সত্যতা এবং সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।