আল নাসরকে শিরোপা জিতিয়ে মৌসুমসেরা জোয়াও ফেলিক্স

সৌদি প্রো লিগের সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে দাপুটে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের মুকুট জিতে নিয়েছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড জোয়াও ফেলিক্স। শুক্রবার লিগ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা প্রদান করে। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে আল নাসরের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও ব্যক্তিগত এই শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে সতীর্থ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলেছেন ফেলিক্স।

শিরোপা নির্ধারণী লড়াই ও রোনালদোর অবদান

লিগের শেষ পর্যায়ে এসে আল হিলালের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে আল নাসর। দামাকের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বিশাল জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ক্লাবটি। উক্ত ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের ফলে আল হিলালকে ২ পয়েন্ট ব্যবধানে পেছনে ফেলে লিগ টেবিলের শীর্ষে থেকে মৌসুম শেষ করে আল নাসর। সৌদি আরবের ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর এটিই রোনালদোর ক্যারিয়ারের প্রথম বড় কোনো শিরোপা জয়।

পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণ

৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পুরো মৌসুমে ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল ছিলেন। তিনি লিগে মোট ২৮টি গোল করেন। তবে গোল সংখ্যার বিচারে রোনালদো এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিক প্রভাবের কারণে পুরস্কারটি জিতেছেন জোয়াও ফেলিক্স। ফেলিক্স পুরো মৌসুমে ২০টি গোল করার পাশাপাশি লিগের সর্বোচ্চ ১৩টি অ্যাসিস্ট প্রদান করেছেন। গোল এবং অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মোট ৩৩টি সরাসরি গোলের সাথে যুক্ত থেকে তিনি আল নাসরের আক্রমণভাগের মূল প্রাণভোমরা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

নিচে সিজন সেরার লড়াইয়ে থাকা দুই শীর্ষ খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

মানদণ্ডজোয়াও ফেলিক্সক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
গোল সংখ্যা২০টি২৮টি
অ্যাসিস্ট সংখ্যা১৩টি (লিগ সেরা)নির্দিষ্ট নয়
সামগ্রিক গোল অবদান৩৩টিনির্দিষ্ট নয়
বর্তমান বয়স২৪ বছর (প্রায়)৪১ বছর
প্রাপ্ত সম্মাননামৌসুমসেরা খেলোয়াড়লিগ চ্যাম্পিয়ন

ফেলিক্সের ট্রান্সফার ও ক্লাবে অবস্থান

চলতি মৌসুমের শুরুতেই প্রায় ৩ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসি থেকে আল নাসরে যোগ দেন জোয়াও ফেলিক্স। দুই বছরের চুক্তিতে সৌদি আরবে পাড়ি জমানো এই তরুণ তারকা প্রথম মৌসুমেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে ফরোয়ার্ড লাইনের বিভিন্ন পজিশনে তার সাবলীল বিচরণ ও সৃজনশীল পাসিং কোচ হোর্হে জেসুসের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

পুরস্কার জয়ের পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ফেলিক্স কোচের আস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নিজের স্বাভাবিক পজিশনে খেলার সুযোগ পাওয়া এবং কোচের পক্ষ থেকে দলের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পাওয়া তার এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তার মতে, কোচের পক্ষ থেকে পাওয়া পূর্ণ আত্মবিশ্বাস মাঠে সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনা সহজ করে দেয়।

কোচের সাফল্য ও বিদায় বার্তা

আল নাসরের এই অবিস্মরণীয় মৌসুমে সাফল্যের কারিগর হিসেবে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন হোর্হে জেসুস। তার অধীনেই দলটি শিরোপার স্বাদ গ্রহণ করে। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দঘন মুহূর্তেই তিনি ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জেসুস নিশ্চিত করেছেন যে, আল নাসরের সঙ্গে এটাই ছিল তার শেষ মৌসুম। তার বিদায়ের মাধ্যমে আল নাসরের একটি সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, যা পরবর্তী মৌসুমে দলটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।