যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স—ডিএনআই) তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগ করেছেন। তিনি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পদত্যাগপত্রে তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানান। ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, তাঁর পদত্যাগ ৩০ জুন থেকে কার্যকর হবে।
পদত্যাগপত্রে তুলসী গ্যাবার্ড তাঁর সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, তাঁর স্বামী সম্প্রতি একটি বিরল ধরনের হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁর স্বামী আব্রাহাম সব সময় তাঁর পাশে থেকেছেন এবং বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে মানসিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন।
চিঠিতে গ্যাবার্ড বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর স্বামীর চিকিৎসা ও পাশে থাকা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি এই ব্যক্তিগত সংকটে স্বামীর পাশে না থাকাকে তিনি বিবেকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছেন না বলে উল্লেখ করেন। এ কারণে তিনি জনসেবামূলক এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে চতুর্থ ক্যাবিনেট পদমর্যাদার কর্মকর্তা, যিনি পদত্যাগ করলেন।
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর পদত্যাগের পেছনে কেবল পারিবারিক কারণ নয়, প্রশাসনিক নীতিগত বিরোধও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ইরান পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক নীতিমালা নিয়ে তিনি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে বের হয়ে পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়া সাবেক এই মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের নীতির বিরোধিতা করে আসছিলেন। এই অবস্থান প্রশাসনের ভেতরে নীতিগত দূরত্ব তৈরি করেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
গ্যাবার্ড তাঁর পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণই প্রধান হিসেবে উল্লেখ করলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, প্রশাসনিক নীতি ও বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল।
তিনি সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেন। পূর্ব আফ্রিকায় সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক রাজনৈতিক প্রচারণায় যুক্ত থাকার সময় তাঁর স্বামীর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই পদত্যাগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর উচ্চপর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটল বলে প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
