রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মূল অভিযুক্ত শিহাব হোসেন (১৯)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে পাবনা জেলার বেড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী সি-ব্লক এলাকায় অবস্থিত আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদরাসার ভেতরে শিশু শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহর মরদেহ গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রামপুরা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুটির শরীরে অস্বাভাবিক যৌন নির্যাতনের লক্ষণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অভিযুক্ত শিহাব হোসেন এর আগেও অন্তত চারজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক ও জোরপূর্বক আচরণের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর ভিকটিমের মা টুকু আরা খাতুন রামপুরা থানায় একটি হত্যা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত শিহাব ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে টাঙ্গাইলের দিকে অবস্থান করছিল।
পরে তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। পরে তার বাবার মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাকে পাবনার বেড়া এলাকায় ডেকে আনা হয়। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেড়া সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাতেই তাকে রামপুরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং আদালতে পাঠানো হয়।
বেড়া থানার একজন কর্মকর্তা জানান, রামপুরা থানা পুলিশের একটি দল তাদের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে এবং অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সময়রেখা
| সময় ও তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| মঙ্গলবার রাত ১০টা | মাদরাসার ভেতরে শিশুর মরদেহ উদ্ধার |
| রাত ১০টার পর | পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রস্তুত |
| রাতের পরবর্তী সময় | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো |
| বুধবার বিকেল | তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত |
| বুধবার সন্ধ্যা ৬টা | বেড়ায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার |
| বুধবার রাত | আদালতে প্রেরণ |
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
