ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে কাজ করা দুই ব্যক্তিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সাংবাদিকতার আড়ালে সামরিক ও সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশভিত্তিক নেটওয়ার্কে সরবরাহ করতেন।
তেহরান গ্রেটার পুলিশ ইনফরমেশন সেন্টার মঙ্গলবার (১৯ মে) এক বিবৃতিতে জানায়, দীর্ঘ ও জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে শহরের দুই পৃথক এলাকা—পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা মিডিয়া কর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে আসছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে তাদের পূর্ণ পরিচয়, কোন বিদেশি সংস্থার সঙ্গে তারা যুক্ত ছিলেন, কিংবা কোন গণমাধ্যমের ছদ্মাবরণে তারা কাজ করছিলেন—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, তারা দেশের বাইরে অবস্থানরত একটি অপারেশন রুমের সঙ্গে এনক্রিপটেড যোগাযোগ স্থাপন করতেন। এই যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযানের সময় পুলিশ একটি স্টারলিংক রিসিভার জব্দ করেছে বলে জানানো হয়।
এর আগে চলতি বছরের ১৪ মার্চ ইরানজুড়ে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক অভিযান চালানো হয়, যেখানে মোট ২৭ জনকে আটক করা হয়। ওই সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জনের কাছ থেকে তিনটি স্টারলিংক টার্মিনাল উদ্ধার করা হয়েছিল।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গ্রেপ্তারকৃত সংখ্যা | ২ জন |
| এলাকা | তেহরানের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল |
| অভিযোগ | সাংবাদিক পরিচয়ে গুপ্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিদেশে প্রেরণ |
| ব্যবহৃত প্রযুক্তি | এনক্রিপটেড যোগাযোগ ও স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট |
| জব্দকৃত সরঞ্জাম | একটি স্টারলিংক রিসিভার |
| পূর্ববর্তী অভিযান | ১৪ মার্চ, ২৭ জন আটক |
| সংশ্লিষ্ট সংস্থা | ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) |
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা দেশের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয় একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে তাদের যোগাযোগ, নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছে।
তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আদালতীয় রায় বা চূড়ান্ত অভিযোগপত্র ঘোষণা করা হয়নি। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
