রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একদল প্রকৌশলী নির্দিষ্ট কিছু দাবিতে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন। সচেতন প্রকৌশলী সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি, শিশুদের একটি নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও দাবি উত্থাপন করেন। আন্দোলনকারীরা একটি বিশেষ ব্যানারে ছবি ব্যবহার করে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী প্রকৌশলীদের মতে, পূর্ববর্তী সময়ে গৃহীত কিছু ভুল এবং অবহেলাজনিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশে ৫ শতাধিক শিশুর অকাল মৃত্যু ঘটেছে। এর পাশাপাশি দেশের প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি শিশু হাম জ্বরের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তারা মনে করেন, শিশুদের এই রোগাক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনার পেছনে নীতি-নির্ধারকদের দায় রয়েছে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তদন্ত সাপেক্ষে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বা বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
আন্দোলনরত প্রকৌশলী সমাজের মূল দাবি, অভিযোগ এবং কর্মসূচির সার্বিক বিবরণ নিচে একটি সুনির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| মানববন্ধনের মূল সূচক ও বিবরণ | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং প্রকৌশলীদের দাবি |
| কর্মসূচি পালনের সুনির্দিষ্ট স্থান | জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা |
| আয়োজক সংগঠনের নাম | সচেতন প্রকৌশলী সমাজ |
| আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও দাবি | ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল |
| উত্থাপিত অভিযোগ (মৃত্যুর সংখ্যা) | ৫ শতাধিক শিশুর অকাল মৃত্যু |
| উত্থাপিত অভিযোগ (আক্রান্তের সংখ্যা) | ৬০ হাজারেরও বেশি শিশু হামে আক্রান্ত |
| চুক্তি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট দাবি | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল |
| কর্মসূচির প্রধান প্রতিপাদ্য ও ভঙ্গি | সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রতিকৃতিসহ প্রতিবাদ |
উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত প্রকৌশলীরা দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নানামুখী সংকট এবং ত্রুটিপূর্ণ নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, শিশুদের এই ব্যাপক হারে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর দায় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন নীতি-নির্ধারক বা পরিচালনাকারীরা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। এই ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা আবশ্যক। একই সাথে দেশের জাতীয় স্বার্থ এবং স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত নির্দিষ্ট চুক্তিটি অবিলম্বে বাতিলের জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান। আন্দোলনকারীদের মতে, উক্ত চুক্তিটি দেশের সার্বিক জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে নিজেদের দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে দাবি করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, প্রকৌশলী সমাজ কেবল নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় যেকোনো সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংকটে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা সর্বদা সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন। প্রেসক্লাবের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁরা জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য পেশ করেন এবং তাঁদের যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরেন। আন্দোলনকারী প্রকৌশলীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং উত্থাপিত দাবিগুলো অনতিবিলম্বে পূরণ করা না হলে তাঁরা সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে পরবর্তীতে আরও কঠোর এবং সুদূরপ্রসারী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। আন্দোলন শেষে প্রতিনিধিরা শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন।
