বিশ্বজুড়ে বীমা কোম্পানিগুলো দাবি নিষ্পত্তির ব্যয় হ্রাস এবং নিখুঁতভাবে ঝুঁকি মূল্যায়নের লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করছে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগেও পুরনো পরিচালনা পদ্ধতি এবং খণ্ডিত উপাত্ত বা ডেটার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই এখনো আশানুরূপ বা পরিমাপযোগ্য আর্থিক রিটার্ন লাভ করতে পারছে না। অধিকাংশ কোম্পানি তাদের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কাঠামোর পরিবর্তে কেবল নির্দিষ্ট কিছু বিচ্ছিন্ন অংশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত রাখছে, যা এর সামগ্রিক আর্থিক প্রভাব ও মুনাফাকে সংকুচিত করছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক সমীক্ষার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বীমা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, বর্তমান প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি সামগ্রিক চিত্র নিচে ছক আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| নির্দিষ্ট সূচক বা বিষয় | সময়কাল বা বছর | প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও পূর্বাভাস |
| প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি (মোট রাজস্বের অনুপাতে) | ২০২৬ সাল (পূর্বাভাস) | ১.৯ শতাংশ (যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি) |
| পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি ব্যবহারে পরিচালন ব্যয় হ্রাস | বর্তমান ও ভবিষ্যৎ | সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব |
| পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি | বর্তমান ও ভবিষ্যৎ | মোট সংগৃহীত প্রিমিয়াম সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব |
| ব্যবসায়িক মডেল পুনর্গঠনে প্রযুক্তির প্রভাব | ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল | প্রায় ৬০ শতাংশ বীমা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে |
| উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা | বর্তমান | ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের সামান্য এবং ১১ শতাংশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি |
| বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা | ২০২৬ থেকে ২০base৮ সাল | দুই-তৃতীয়াংশ বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা |
প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সকল বীমা প্রতিষ্ঠান তাদের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে গভীরভাবে একীভূত করতে পারবে, তারা তাদের সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে। একই সাথে এই সমন্বিত ব্যবস্থার কল্যাণে প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সংগৃহীত প্রিমিয়াম বা ব্যবসার পরিমাণ আরও ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। বর্তমানে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানত গ্রাহকের ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রিমিয়ামের মূল্য নির্ধারণের সঠিকতা নিশ্চিতকরণ, প্রাথমিক পর্যায়ে সম্ভাব্য জালিয়াতি বা প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং দৈনন্দিন রুটিন কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
তবে এই আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পথে মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানের পুরনো আমলের প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, সেকেলে প্রযুক্তি ব্যবস্থাগুলো এই ধরণের উন্নত প্রযুক্তির উপাত্ত বা ডেটা সমন্বয়ের জন্য উপযুক্ত করে তৈরি করা হয়নি, যার ফলে এটি বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় উপাত্ত বা ডেটা যদি খণ্ডিত, অগোছালো কিংবা দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি থেকে প্রাপ্ত ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্যতাহীন হতে পারে।
এই সকল বাস্তব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বীমা শিল্পে এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে যে সকল বীমা প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মী প্রতি উৎপাদনশীলতায় সামান্য প্রবৃদ্ধির কথা জানিয়েছে এবং ১১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মী প্রতি পরিমাপযোগ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই ইতিবাচক ফলের কারণে সিংহভাগ বীমা কোম্পানি আগামী দিনগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তাদের মূলধনী বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর দৃঢ় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
